দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজেপির যাঁরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মোদীর আমলে তাঁরাই ভোটে বাদ। এই বলে বিজেপির সমালোচনা করেছিল কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রতিটি বিরোধী দল। দলের প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণি, মুরলীমনোহর জোশীর মতো নেতাকে এবার প্রার্থী করেনি বিজেপি। তাঁরা যে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন, সেকথাও তাঁদের সরাসরি জানাননি বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। দলের দ্বিতীয় সারির এক নেতাকে দিয়ে তাঁদের জানানো হয়েছিল। এর পরেই বিরোধীরা একবাক্যে বলতে শুরু করে, বিজেপিতে প্রবীণদের সম্মান নেই। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ শীঘ্রই আডবাণী, জোশীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার দেশে শুরু হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই সোমবার দলের ইস্তাহার প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি। এদিনই অমিত শাহ দুই প্রবীণ নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তাঁদের ভোট প্রক্রিয়ায় শামিল করাই বিজেপি সভাপতির উদ্দেশ্য।
আডবাণী ও জোশী ভোটের আগে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্পষ্ট ভাষায়। এবারের ভোটের প্রচারেও তাঁদের দেখা যায়নি। বিরোধীরা বলেছিলেন, গেরুয়া ব্রিগেডের দুই প্রবীণতম নেতাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন অমিতরা।
৯১ বছরের আডবাণীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এবার তাঁর গান্ধীনগর আসন থেকে লড়বেন অমিত শাহ। ওই আসনে পর পর ছ’বার জয়লাভ করেছিলেন আডবাণী। গত মাসে জোশী তাঁর কানপুর কেন্দ্রের ভোটারদের এক খোলা চিঠিতে জানিয়ে দেন, দল তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বারণ করেছে।
আডবাণীও গত সপ্তাহে ব্লগে মন্তব্য করেন, বিজেপি কখনই তার সমালোচকদের দেশদ্রোহী বলে মনে করে না। মোদী ও অমিত শাহ বিভিন্ন জনসভায় বলেছিলেন, বিরোধীরা পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছেন। আডবাণী কার্যত তাঁদের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন বলে বিরোধীরা দাবি করেন।
এর পরেই শোনা যায়, বিরোধীরা আডবাণী ও জোশীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা নাকি জোশীকে বোঝাছেন, আপনি বারাণসী কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হোন। ২০১৪ সালে জোশী বারাণসী আসনটি মোদীকে ছেড়ে দেন। নিজে দাঁড়ান কানপুর থেকে।
আডবাণীর কাছেও বিরোধীরা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা যায়। জোশী বা আডবাণীর মতো নেতা জিততে পারবেন কিনা পর্যবেক্ষকদের সন্দেহ আছে। কিন্তু তাঁরা বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারবেন। এমনকী বিজেপির প্রার্থীর ভালো সংখ্যক ভোটও কাটতে পারবেন।
এই সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার পরেই শোনা যাচ্ছে, অমিত শাহ শীঘ্র দুই প্রবীণ নেতার সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন।