
শেষ আপডেট: 25 February 2022 12:21
হাসপাতালে চিকিত্সা চলার সময় তদন্তকারী পুলিশের কাছে জবানবন্দিতেও তিনি একই অভিযোগ করেন৷ রিজওয়ানুর রহমানের বাড়ির অদূরেই থাকতেন আমিনুল৷ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সল্টলেকের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২/২ এফ পাম এভিনিউয়ের ছোট্ট ফ্ল্যাটে কথা হচ্ছিল মির আমিনুল ইসলামের বাবা ইজরাহুল ইসলামের সঙ্গে। বললেন, 'আমরা ইনসাফ পেলাম না। কেস এগোচ্ছে না। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে চলে গেল। মানবাধিকার কমিশন পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তাও পাইনি। আমাদের অবস্থা এখন খুবই খারাপ।'
আনিস খানের ঘটনায় তাঁর বক্তব্য, 'খবরের কাগজে পড়েছি। আনিসের বাবা ঠিকই দাবি করছেন। আমরাও সিবিআই চেয়েছিলাম।'
সদ্য চোখ অপারেশন হয়েছে আমিনুলের মা শেহনাজ ইজহারের। তিনি বললেন, 'ক্ষতি যা হওয়ার বাবা-মারই হয়। আমরা কোনও বিচার পেলাম না।'
বঙ্গবাসী কলেজের পড়ুয়া আমিনুল এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন। বহু সামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকতেন বলে জানালেন এলাকার লোকজন। তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু জাহিদ হুসেন বললেন, 'আনিস খানের বাবা সিটকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এটাই স্বাভাবিক। কারণ রিজওয়ানুর রহমানের ঘটনায় যেসব পুলিশ আধিকারিকদের ওপর আঙ্গুল উঠেছিল তাঁরাই এখন দায়িত্বে। রাজ্য সরকারের ওপর আমাদেরও আস্থা নেই। আমিনুলের মামলা এখনও হাইকোর্টে ঝুলে আছে। যেমন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের ক্লোজ করা হয়েছিল, তারা ফের পদে বহাল হয়েছে।'
আমিনুলের এক বন্ধু মঙ্গল শেখ বললেন, 'গুড্ডু সবসময় সামাজিক কাজ করত। রিজওয়ানুর রহমানের ঘটনার সময়েও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শরিক হয়েছিল। ওই এই মৃত্যু আমরা আজও মেনে নিতে পারিনি।'
এদিন গ্রিনপার্ক সংলগ্ন রিজওয়ানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, টিনের চালের ছোট্ট বাড়িটি অপরিবর্তিত। জানা গেল ওই বাড়িতে শুধু রিজয়ানুরের মা থাকেন। তৃণমূল বিধায়ক ছেলে রুকবানুর অন্য বাড়িতে। কথা বলতে চাওয়ায় বাড়ির এক মহিলা জানালেন, তিনি অসুস্থ। কথা বলবেন না। ফোনে রুকবানুর রহমান বললেন, 'মায়ের নিউমোনিয়া হয়েছে। উনি কিছু বলবেন না।'