.webp)
শেষ আপডেট: 25 January 2024 22:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চ বনাম সিঙ্গল বেঞ্চের বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সৌমেন সেনের নির্দেশ নিয়ে এজলাসে বসে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু তা নয় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এও বলেছেন যে, দেখে মনে হচ্ছে উনি (পড়ুন বিচারপতি সৌমেন সেন) কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিচারপতি অমৃতা সিনহাকে তাঁর চেম্বারে ডেকে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুটি পিটিশন খারিজ করে দিতে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এহেন চড়া সমালোচনার কোনও জবাব বিচারপতি সৌমেন সেন অন্তত তাঁর এজলাসে বসে বা আদালতের বাইরে দেননি। তবে ঘটনাচক্রে দেখা গেল, দুপুরে ওই ঘটনার পরই বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও পার্থ সারথী চট্টোপাধ্য়ায়ের ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরিত করা হল।
কলকাতা উচ্চ আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমবার থেকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সমালোচনা ও বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে মামলা সরে যাওয়ার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আদৌ রয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। কিন্তু এই ঘটনাক্রম বাংলার রাজনীতি ও আদালত পাড়ায় সোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতির এমন খোলাখুলি সমালোচনা করার জন্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষের আগল খুলে দিয়েছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণাভ ঘোষ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিচারপতি সৌমেন সেন ভদ্র মানুষ। উনি আইনটা বোঝেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এদিন যা করেছেন তা দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য কলঙ্কময় দিন হয়ে থাকবে।” আবার আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ শ্লেষের সঙ্গে বলেছেন, “বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের অজ্ঞতাই ওঁর শক্তি। আইনজীবী হিসাবে পসার ছিল না। তাই ৫৬ বছর বয়সে বিচারপতি হয়েছেন।”
মূল বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল মেডিকেলে ভর্তি সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে কেউ কেউ মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু তার পরেও বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআইকে এফআইআর দায়ের করতে বলেন। সেই নির্দেশও খারিজ করে দেয় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। এর পরই এজলাসে বসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
সব মিলিয়ে প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিনটায় কলকাতা হাইকোর্টে একটা নয়া নজির তৈরি হল। যা বিচারব্যবস্থার জন্য ভাল না মন্দ তা সময় বলবে।