
শেষ আপডেট: 25 May 2023 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা কি সত্যি আছে, নাকি আদৌ নেই? তারা মানে, 'বঙ্কুবাবুর বন্ধুরা'? অর্থাৎ ভিনগ্রহীরা। ব্রহ্মাণ্ডের কোনও না কোনও গ্রহতে তারা আছে বলেই কল্পনা করা হয়। এ নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। মাঝেমধ্যেই তারা নাকি চুপিচুপি সঙ্কেত (Alien signal) পাঠিয়ে তাদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে যায়। সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকলেও তাদের না থাকার কথাও জোর দিয়ে বলতে পারেন না দুনিয়ার তাবড় বিজ্ঞানীরা। মহাকাশে মাঝেমধ্যে রেডিও সিগন্যাল ভেসে আসতে দেখে কৌতুহলটা আবার চাগাড় দেয়। আর এবার যা ঘটেছে তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে।
আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে যা আগে ঘটেনি। মঙ্গল (Mars) গ্রহ থেকে নাকি দুর্বোধ্য সঙ্কেত ভেসে আসছে। এই মঙ্গলেই প্রাণের খোঁজ করতে গিয়ে কত না অভিযান চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের আশপাশে চক্কর কাটছে নাসার মহাকাশযান। নাসার ল্যান্ডার মঙ্গলের লাল মাটিতে ঘুরে ঘুরে নুড়ি-পাথর ঘেঁটে প্রাণের খোঁজ করেই চলেছে। এর মধ্যেই মঙ্গল থেকে সিনগ্যাল ভেসে আসতে দেখে অবাকই হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির এক্সোমার্স (ExoMars) ট্রেস গ্যাস অর্বিটার (TGO) বুধবার রাত ৯টা নাগাদ মঙ্গল থেকে ভেসে আসা রেডিও সিগন্যাল শুনেছে। মঙ্গলের কোথা থেকে এই সঙ্কেত আসছে সে নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।
সৌরজগতের গুরু গ্রহ বৃহস্পতির একটি উপগ্রহ (চাঁদ) থেকেও এমনই রেডিও সিগন্যাল ভেসে আসতে দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতি আমাদের সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় গ্রহ। আকারে-আয়তনে, ভরে পেল্লায় হওয়ায় একে গুরুগ্রহই বলে মহাকাশবিজ্ঞানীরা। এই বৃহস্পতির ৭৯টি উপগ্রহ আছে। কোনও গ্রহের উপগ্রহকে সাধারণত চাঁদ বলেই ডাকা হয়। তো বৃহস্পতির এই ৭৯টি চাঁদের সবকটিই গ্যাসীয় পিণ্ড। তাতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা খুব একটা আছে কিনা সে নিয়ে পাকাপোক্ত তথ্য এখনও দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এমনিতেই ভিন গ্রহে প্রাণের খোঁজ নিয়ে সেই কবে থেকেই তোলপাড় চলছে। নাসা এক্সোপ্ল্যানেট হান্টার কবে থেকেই ভিন গ্রহদের পাড়ায় চক্কর কেটে চলেছে। প্রথমবার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহ গ্যানিমিড থেকে এমন এফএম সিগন্যাল ভেসে আসতে দেখা গিয়েছিল। পৃথিবীতে যেমন এফএম রেডিও সিগন্যাল বা তরঙ্গ আছে, ঠিক তেমনই তরঙ্গ ভেসে আসতে দেখা গিয়েছিল গ্যানিমিড থেকে। এর আগে বৃহস্পতির চাঁদ (উপগ্রহ) জুনো থেকে রেডিও বার্তা ভেসে এসেছিল। সেবারও বিষয়টা নিয়ে হইচই হয়েছিল।
মহাকাশের সুদূর গ্যালাক্সি থেকে বারে বারেই রহস্যময় তরঙ্গ ভেসে এসেছে। কখনও সেই তরঙ্গের মাত্রা তীব্র, আবার কখনও কম, বিক্ষিপ্ত। কারা পাঠাচ্ছে এইসব সিগন্যাল? ভিনগ্রহীদের ডাক কি?