
শেষ আপডেট: 15 April 2024 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে বিঘার পর বিঘা জমি, ভেড়ি দখলের বখরা পেয়েছিলেন শাহজাহানের ভাই আলমগীর এবং শাহজাহানের দুই সাগরেদ শিবপ্রসাদ হাজরা এবং দিদার। শুক্রবার আদালতে এমনই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
আদালতে ইডির দাবি, বাস্তবে মাছ সরবরাহ করা হয়নি। কিন্তু মাছ সরবরাহের নাম করে শাহজাহানের মেয়ের নামে থাকা এসকে সাবিনা ফিশারিজ থেকে দু’কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল শাহজাহানের ভাই আলমগীরের অ্যাকাউন্টে। একইভাবে শিবপ্রসাদ হাজরার অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকা এবং দিদার অ্যাকাউন্টে ৭৪ লক্ষ টাকা ৫৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ইডির বিশেষ আদালতে শাহজাহানের ভাই আলমগীর এবং দুই শাগরেদ শিবু, দিদারকে হাজির করানো হয়েছিল। সেখানেই এই দাবি করে তদন্তকারী সংস্থা। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত তিন জনকে ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
আদালতে ইডির দাবি, রীতিমতো সিন্ডিকেট তৈরি করেই সন্দেশখালিতে জমি, ভেড়ি দখলের কারবার গড়ে তুলেছিল শাহজাহান গোষ্ঠী।
ইতিমধ্যে শাহজাহানকে জেরা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। জমি জালিয়াতি সহ একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন শাহজাহান, সেই প্রমাণ মিলেছে। কিছুদিন আগেই ইডির আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন, ওই এলাকায় একটি সিন্ডিকেট চলছিল এবং সেটির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন শাহজাহান। কীভাবে কালো টাকা সাদা করা হত, সেই ব্যাখ্যাও আদালতে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনজীবী। শেখ শাহজাহানের সম্পত্তি নিয়ে আরও বিশদে তথ্য জোগাড় করতেও আসরে নেমেছে ইডি। সেই সুত্রেই এবার শাহজাহানের ভাইকে হেফাজতে নিল ইডি।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শেখ শাহহাজাহান। গত ৫ জানুয়ারি তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া নেতা শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি অফিসাররা। দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর শাহজাহানকে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর ইডির উপর হামলার ঘটনার তদন্ত করতে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিবিআই। সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বসিরহাট জেলে নিয়ে যাওয়া হয় শাহজাহানকে। গত ৩০ মার্চ জেলে রেশন দুর্নীতির তদন্তে শাহজাহানকে জেরা করতে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেদিন রাতে জেল থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।