
শেষ আপডেট: 17 June 2023 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু থাকলে ভারত ভাগ হত না। মনে করেন দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। শনিবার দিল্লিতে অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অর্থাৎ অ্যাসেচেম আয়োজিত প্রথম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্মারক বক্তৃতায় দোভাল মহান এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তবে আশ্চর্যের হল দীর্ঘ বক্তৃতায় এই মহান বিপ্লবীর অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে একটি কথাও বলেননি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বিষয়টির রাজনৈতিক ও সামাজিক স্পর্শকাতরতার কথা ভেবেই সম্ভবত তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।
সুভাষ চন্দ্র বসুর সাহসীকতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেসের অভ্যন্তরে মহাত্মা গান্ধীর মতো নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন তিনি। উল্লেখ করেছেন কংগ্রেসের অন্দরের লড়াইয়ের পরিণতিতে সুভাষচন্দ্র বসুর দলত্যাগ এবং পৃথক দল তৈরির কথা।
অজিত ডোভাল সুভাষ বসুর চরিত্রের দিকগুলিকে স্রোতের বিরুদ্ধে যাত্রা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাল বা মন্দ বলছি না, তবে ভারতের এবং বিশ্বের ইতিহাসে স্রোতের বিরুদ্ধে হাঁটার খুব কম দৃষ্টান্ত আছে। সুভাষ বসুর সমান্তরালের বিপরীতে যাত্রা করার সাহস ছিল। সেই বিপরীত স্রোত সহজ নয়।’ ডোভাল আরও বলেছেন, ‘নেতাজি ছিলেন একাকী ব্যক্তি। জাপান ছাড়া তাঁকে সমর্থন করার মতো কোন দেশ ছিল না।’
নেতাজিকে নিয়ে ডোভালের খোঁচায় পাল্টা জয়রাম ‘বাংলা ভাগের নায়ক শ্যামাপ্রসাদ’
তাঁর কথায়, ‘সুভাষচন্দ্র বসু এই ধারণা পোষণ করতেন, আমি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, আমি স্বাধীনতা ভিক্ষা চাইব না। এটি আমার অধিকার এবং আমাকে এটি পেতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘সুভাষচন্দ্র বসু থাকলে ভারত ভাগ হত না। জিন্নাহও বলেছিলেন। আমি কেবল একজন নেতাকে মেনে নিতে পারি এবং তা হল সুভাষচন্দ্র বোস।’
স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রাক্কালে জাতীয় নেতৃবৃন্দের একাংশ যখন ব্রিটিশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশভাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনে ব্যস্ত তখন সুভাষচন্দ্র বসু ভারতকে মুক্ত করার লড়াই চালাচ্ছেন নিজস্ব সেনাবাহিনী আইএনএ গঠন করে। সুভাষের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ডোভাল ভাষণে সেই প্রসঙ্গ না এনেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের মানসিকতাকে শ্রদ্ধা করেন। যুদ্ধে জয়-পরাজয়কে নয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, প্রায়ই আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে আমাদের জীবনে প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ, নাকি ফলাফল। কেউ সুভাষচন্দ্র বোসের মহান প্রচেষ্টা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে? গান্ধীও তাঁর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু লোকেরা প্রায়শই ফলাফল দিয়ে অন্যকে বিচার করে। তাহলে কি সুভাষ বসুর প্রচেষ্টা বৃথা ছিল, প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন ডোভাল। তাঁর কথায়, ইতিহাস নেতাজির প্রতি নির্দয়।
এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করেন ডোভাল। প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে সুভাষচন্দ্র বসুর নতুন মূর্তি বসিয়েছেন কর্তব্যপথের অদূরে। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রস আইল্যান্ডের নামকরণ করেছেন সুভাষচন্দ্র বসুর নামে।
মণিপুরে সেনা জঙ্গি সংঘর্ষ, চলছে অগ্নিসংযোগ, অবরোধ হামলাকারীদের টার্গেট ক্রমে শাসক বিজেপি