
শেষ আপডেট: 16 January 2024 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে তৃণমূলের মধ্যেই সন্দেহের মেঘ তৈরি হয়েছে। চব্বিশের ভোট আসছে। তার আগে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলেন! লোকসভার বিষয়আশয়ে ঢুকবেনই না?
দ্য ওয়াল আগেই লেখা হয়েছিল যে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রমশ আগের মতই সক্রিয় দেখা যেতে পারে অভিষেককে। সম্ভবত সেটাই হতে চলেছে। সন্দেহের মেঘ কাটিয়ে অবশেষে সামনে এলেন অভিষেক।
সোমবার সংক্রান্তির পর উত্তরায়ণ শুরু হয়েছে। এক সময়ে অটলবিহারী বাজপেয়ী বলতেন, এই শুভ মুহূর্ত বড় পরিবর্তনের সময়। বাজপেয়ী এই উত্তরায়ণের মুখে সাহস করে ভোটও এগনোর ঘোষণা করেছিলেন। সে যাক। মঙ্গলবার ১ মাঘ দেখা গেল, শাসক দল তাদের সমস্ত সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কভার পিকচার বদলে ফেলেছে। সেই ছবিতে সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর ঈষৎ পিছনে অভিষেক।
তৃণমূল থেকে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীরা বেরিয়ে যাওয়ার পর দলীয় রসায়নে এই এক ও দু’নম্বরের এই সমীকরণটাই ছিল। দেখা গেল, সেটাই রয়েছে। এবং অক্ষতও। অর্থাৎ মমতা ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্বের যে খবর চাউর হয়েছিল, তা অতীতের মতই এবারও সম্ভবত ক্ষণস্থায়ীই ছিল।
অভিষেক যে নিজেকে শুধু ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না সেই ইঙ্গিত তিনি সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারে এক সভাতেই দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটে তিনি নিজে প্রার্থী থাকবেন, তাই কিছুটা সময় তাঁর নির্বাচন কেন্দ্রে দিতেই হবে। তার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন নির্দেশ দেবেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করবেন তিনি।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, মমতা ও অভিষেকের মধ্যে একটা মতান্তর তৈরি যে হয়েছিল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই মতান্তর খুবই স্বাভাবিক। এত বড় দল চালাতে গেলে দুজনের মধ্যে কখনও কখনও মতের অমিল হতেই পারে। তবে ইতিবাচক ইঙ্গিত, যে, মেঘ কেটে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ হল, লোকসভা ভোটে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণে অভিষেকের অন্যতম ভূমিকা থাকতে পারে। সম্ভবত সেই সব শর্তেই হয়তো বরফ গলেছে।