হুমায়ুন প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, যে রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ ছড়ায়, সেই রাজনীতিতে আমাদের জায়গা নেই। বাংলার মুসলিম সমাজ খুব ভাল করেই জানে, কার নির্দেশে হুমায়ুন কাজ করছেন।

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 8 December 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাবরি-ধাঁচের মসজিদ নির্মাণ (Masjid) ইস্যু। শিলান্যাসের পর থেকেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্র করে জল্পনা, বিতর্ক, পাল্টা-বিতর্কে উত্তাল বাংলা। এ অবস্থায় রবিবার কড়া ভাষায় তাঁর সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের সম্ভাবনা নস্যাৎ করল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asauddin Owisi) দল এআইএমআইএম (AIMIM)।
দলের মুখপাত্র সায়দ আসিম ওয়াকারের দাবি, “হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আসলে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোক। আর পুরো দেশ জানে, শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) কোর টিমের সদস্য। আমরা শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে কোনও আপস করি না।” হুমায়ুন প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, যে রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ ছড়ায়, সেই রাজনীতিতে আমাদের জায়গা নেই। বাংলার মুসলিম সমাজ খুব ভাল করেই জানে, কার নির্দেশে হুমায়ুন কাজ করছেন।
এআইএমআইএম (AIMIM) নিয়ে হুমায়ুন কবীর আবার পাল্টা মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “হায়দরাবাদ (Hyderabad) থেকে ওয়েইসির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আমায় যোগাযোগ করেছেন। তিনিও তো বহুবার বিজেপির এজেন্ট তকমা পেয়েছেন অনেকবার! রাজনীতিতে এসব কথার মূল্য নেই। বরং ওরা যদি বাংলায় শক্তি বাড়াতে চায়, তাহলে ওদেরই আমার প্রয়োজন হবে।”
শুধু AIMIM নয়, প্রয়োজনে আইএসআফ (ISF) ও বামেদেরও (CPIM) পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “AIMIM তো স্থির। পাশাপাশি আইএসএফ এলে ভাল। বামফ্রন্ট চাইলে স্বাগত। কংগ্রেসও (Congress) আপত্তির নয়। আমার লক্ষ্য একটাই— বঙ্গ বিজেপিকে রোখা এবং আরএসএস ভাবাদর্শের মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরানো।”
শনিবার বাবরি-ধাঁচের মসজিদের (Masjid) শিলান্যাসের পর সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন - ওয়েইসির তরফে তাঁকে হায়দরাবাদে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে জোট-জল্পনা জোরালো হয়েছিল। তবে ওয়েইসির দলের সাফ ‘না’-এর পরে সেই জল্পনা খানিকটা থমকে গেল বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অবশ্য শুরু থেকেই হুমায়ুনকে ‘বিজেপির হয়ে কাজ করা বিশ্বাসঘাতক’ বলেই আক্রমণ শানাচ্ছে। সাসপেন্ড করার সময় সাংবাদিক বৈঠক করে ফিরহাদ হাকিম সরাসরি তাঁকে বিজেপির লোক বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আবার তীব্র ভাষায় বিজেপি আর তৃণমূলকেই নিশানা করেন। বলেন, দুটি দল মিলেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ ছড়াচ্ছে। এদের রোখা না গেলে এমন দিন আসবে, তখন মুর্শিদাবাদে হিন্দু-মুসলমান আলাদা চায়ের দোকানে বসবে।
যদিও এসব নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছেন না হুমায়ুন কবীর। শনিবার মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণ ঘিরে তোলা প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “মসজিদ তৈরিতে টাকার কোনও সমস্যা হবে না। রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকেই মানুষ নিজে থেকে টাকা দেবেন।” চমকে দিয়ে দাবি করেন - একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যদিও সেই সংস্থার নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।