
শেষ আপডেট: 19 October 2020 18:30
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, করোনা সংক্রমণে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অধিকাংশ রোগীই। অনেকের আবার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশের শঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। এইসবের কারণই হল মস্তিষ্কের কোষে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ভাইরাস। ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করেছেন, মস্তিষ্কের কোষে খুব তাড়াতাড়ি বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারছে সার্স-কভ-২ ভাইরাস। সংখ্যায় বেড়ে কোষকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলছে। ফলে অক্সিজেন পৌঁছতে পারছে না মস্তিষ্কের কোষে। ধীরে ধীরে সেই কোষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরাও দাবি করেছিলেন, ভাইরাসের সংক্রমণে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবেই কোষ দ্রুত নষ্ট হতে বসেছে। সেই কারণেই রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা গেছে মস্তিষ্কে। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
‘অ্যালঝাইমার্স ডিজিজ’ সায়েন্স জার্নালে একটি গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছিলেন নিউরোলজিস্টরা। কোভিড সংক্রমণে কীভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি হচ্ছে বা হতে পারে তার সম্ভাব্য কিছু কারণ বলা হয়েছিল। নিউরোলজিস্টরা বলছিলেন, ফুসফুসের এপিথেলিয়াল কোষকে নষ্ট করে দিচ্ছে ভাইরাস। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে। মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে ‘ব্রেন ড্যামেজ’ হচ্ছে। করোনার নতুন উপসর্গগুলির মধ্যে মানসিক অবসাদ, ভুল বকা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ইত্যাদিরও উল্লেখ করেছেন নিউরোলজিস্টরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এর কারণ হতে পারে সাইটোকাইন প্রোটিনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণ এবং রক্ত চলাচল বাধা পাওয়া। মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছনো বন্ধ হলে বা রক্ত জমাট বাঁধলে তীব্র প্রদাহ হচ্ছে, যার থেকে স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষকদের বক্তব্য, ১৮ বছর থেকে ৮৫ বছর বয়সী কোভিড রোগীদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অনেকেই সাইকোসিস, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফ্যালোমায়েলিটিস (Adem) রোগে আক্রান্ত হতেও দেখা গেছে অনেককে। এটি মস্তিষ্কের এক জটিল রোগ যেখানে তীব্র প্রদাহ হয়।