শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর সিঙ্গল বেঞ্চে তাঁর দায়ের করা মামলা খারিজ হয়ে যায়। আদালত জানিয়ে দেয়, গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশের তদন্ত চলবে নিয়ম মেনেই।

অর্জুন সিং
শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কর্মীকে (TMC) লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। ফলে ফের বিপাকে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং (Arjun Singh)। শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর সিঙ্গল বেঞ্চে তাঁর দায়ের করা মামলা খারিজ হয়ে যায়। আদালত জানিয়ে দেয়, গুলি চালানোর অভিযোগে পুলিশের তদন্ত চলবে নিয়ম মেনেই।
অর্জুন সিং চেয়েছিলেন, গত মার্চে জগদ্দলে তৃণমূল কর্মীর ওপর গুলি চালানোর মামলাটি খারিজ করা হোক। কিন্তু আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, তদন্তের দায়িত্ব থাকবে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তদলের (SIT) হাতে। তবে আদালত জানিয়েছে, প্রয়োজনে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে পারবেন অর্জুন।
আগেও হাইকোর্টে গিয়েছিলেন অর্জুন
এর আগে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া প্রায় ৫০টি এফআইআরের ভিত্তিতে তিনি বিচারপতি শম্পা দত্তের বেঞ্চে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়েছিলেন। আদালত তাঁকে সেই সুরক্ষা দিলেও, তদন্তে ছাড় দেয়নি।
মামলার পটভূমি
গত মার্চে জগদ্দলে এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এদিন সেই মামলাতেই ফের তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
২০২১ সাল থেকে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও এফআইআর দায়ের করা যেত না, সেই রক্ষাকবচ শুক্রবার প্রত্যাহার করে নিল হাইকোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের একক বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা হয়।
এর ফলে এখন থেকে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের করতে আদালতের অনুমতির আর প্রয়োজন নেই। তবে, আগের ১৬টি মামলার মধ্যে ১৫টি মামলায় শুভেন্দু অধিকারী আগের মতোই সুরক্ষিত থাকবেন। সেই মামলাগুলিতে কোনও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
একই দিনে বিজেপির দুই নেতাকে নিয়ে আদালতের কড়া অবস্থান নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। সকালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনে ধাক্কা, আর বিকেলে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদের মামলায় বিপর্যয়— এক দিনে দুই বিজেপি নেতার ‘আইনি পরীক্ষা’ যে দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।