দীর্ঘ টালবাহানার পর শেষমেশ পদত্যাগ করলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশ শিরোধার্য বলে ইস্তফাপত্রে উল্লেখ করলেন।

গোপাল শেঠ
শেষ আপডেট: 10 December 2025 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। তৃণমূল তাঁকে আগেই পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। বুধবার জমা দেওয়া ইস্তফাপত্রে সেই দলীয় নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন গোপালবাবু। তবে এর আগে ছুটিতে চলে যাওয়ায় এবং পাল্টা পদত্যাগের কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া, ইস্তফা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা।
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব চেয়ারম্যানকে সাত দিনের মধ্যে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেননি গোপাল শেঠ। বরং তিনি দাবি করেছিলেন, পুরসভার অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না আঢ্যর দায়ের করা মামলাটি হাইকোর্টে (High Court) বিচারাধীন থাকায় তিনি পদত্যাগ করতে পারবেন না। পাশাপাশি রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে পদচ্যুতির কারণ জানতে চেয়েছিলেন।
এদিকে পুরসভা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। বিশেষত জলযন্ত্রণা (Water Crisis), নাগরিক পরিষেবার বেহাল অবস্থা এবং গত লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Election) বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডে তৃণমূলের ব্যাপক ভোটহারের কারণ- এসবই উঠে এসেছিল তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার সমীক্ষায়। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় চেয়ারম্যান বদলের। তার ভিত্তিতেই চেয়ারম্যানকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য নেতৃত্ব।
দলের নির্দেশ অমান্য করায় পরে গোপাল শেঠকে শোকজ (Show Cause Notice) নোটিস পাঠায় বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল। অন্যদিকে দলীয় নির্দেশ সত্ত্বেও পদ আঁকড়ে রাখায় ক্ষোভ বাড়ছিল দলের ভেতরে। এর মধ্যেই হঠাৎ ছুটি নেওয়ার ঘোষণা করেন গোপালবাবু। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসার জন্য ছুটিতে গিয়েছেন।
তবে একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ ছিল, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য যে দু’জন পুলিশকর্মী নিয়োজিত ছিলেন, সেই পুলিশি সিকিউরিটি (Police Security) তুলে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমার মৃত্যু হলে পুলিশ প্রশাসন দায়ী থাকবে। তবে আমি মৃত্যু ভয় করি না। দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করব না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
অন্যদিকে, তাঁর পদত্যাগের নির্দেশের সময়েই জ্যোৎস্না আঢ্যকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এমন জল্পনাও রাজনৈতিক মহলে ঘুরতে শুরু করে। আস্থা ভোটের প্রসঙ্গ ওঠে।
মনে করা হচ্ছে, এসবের মধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের ফোন পেয়ে বুধবার তড়িঘড়ি বহুদিনের অনিশ্চয়তা, দলীয় চাপ, শোকজ নোটিস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ইস্তফা দিলেন গোপাল শেঠ। পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, সেনিয়ে কিছু যায়নি।