এক কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক আনতে পারলেই মিলছে দুটি খাবারের কুপন। দু-কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক আনলে পাঁচটি খাবারের কুপন দেওয়া হচ্ছে। ভদ্রেশ্বর পালবাগানে পুরসভা লজে মা ক্যান্টিন থেকে এই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 8 December 2025 17:48
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: শহরকে পরিছন্ন রাখতে প্রতিদিন আবর্জনা নেওয়ার কাজ করেন পুরসভার কর্মীরা। তা সত্বেও প্লাসটিকের বিষ থেকে কোনওভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না শহরকে। এই কারণেই এবার অন্যরকম ভাবনাচিন্তা শুরু করল ভদ্রেশ্বর পুরসভা। এক কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক কুড়িয়ে এনে দিলেই বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হবে মা ক্যান্টিন থেকে। ভাবা মাত্র কাজও শুরু হয়ে গেল।
ভদ্রেশ্বরে জুটমিল কলোনি-সহ বিভিন্ন বস্তি এলাকা রয়েছে। তাছাড়া বহু মানুষ রাস্তাঘাটে ও বাড়ির আশেপাশে যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলে দেয়। তাই শহরকে প্লাস্টিক মুক্ত করা এখানে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। অনেক আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ও শহরের সর্বত্র ব্যানার দিয়ে প্রচার চলছে। তাতে বিশেষ ফল না মেলায় এবার খাবারের বিনিময়ে প্লাস্টিক সংগ্রহ অভিযান শুরু হল। এক কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক আনতে পারলেই মিলছে দুটি খাবারের কুপন। দু-কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক আনলে পাঁচটি খাবারের কুপন দেওয়া হচ্ছে। ভদ্রেশ্বর পালবাগানে পুরসভা লজে মা ক্যান্টিন থেকে এই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, "এমনিতে প্রায় তিনশো জনকে খাবার দেওয়া হয় মা ক্যান্টিন থেকে। কেউ পাঁচশো গ্রাম প্লাস্টিক আনলে পাবেন একটি খাবার কুপন। এক কেজি আনলে দুটো ও দু কেজি আনলে পাঁচটা খাবারের কুপন দেওয়া হবে।'' পুরসভার এই উদ্যোগে খুশি শহরের মানুষ।
মা ক্যান্টিনে প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাবার আনতে আসা অনেকেই বললেন, "এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা যারা পাঁচ টাকার বিনিময়ে মা ক্যান্টিন থেকে খাবার পেয়ে থাকি, তাঁরা রাস্তাঘাটে পরে থাকা প্লাস্টিক জমা দিয়ে খাবার পেতে পারি।আর একটু চেষ্টা করলে এক কেজি বা দুই কেজি প্লাস্টিক জোগাড় করা যেতেই পারে। এটা প্রত্যেকের করণীয় রাস্তায় বা ড্রেনে প্লাস্টিক না ফেলে একটা নিদিষ্ট জায়গায় জমা করা। সেই প্লাস্টিক দু তিন দিন অন্তর মা ক্যান্টিনে আনলে বিনা পয়সায় খাবার পাব। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।"
ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী জানান, গত তিন বছর ধরে মা ক্যান্টিন চলে আসছে। গৃহহীন ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়। ভদ্রেশ্বর শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পুরসভার নিজস্ব লোক আছে। তা ছাড়াও বর্জ্য প্লাস্টিকের বিনিময়ে বিনামূল্যে খাবারের কুপন দেওয়া হচ্ছে। মা ক্যান্টিনে পাঁচ টাকার বিনিময়ে ডিম ভাত ও সোয়াবিনের তরকারি দেওয়া হয়। সেই পাঁচ টাকাও যারা দিতে পারছেন না তাদের জন্য পুরসভার তরফে এই স্কিম চালু করা হয়েছে। এতে দুতরফেরই লাভ।
তিনি বলেন, "প্রত্যেকের বাড়িতে বা আশেপাশের অনেক প্লাস্টিক পরে থাকে। সেই পাঁচশো বর্জ্য প্লাস্টিক দিলেই একটি করে খাবারের কুপন দেওয়া হবে। ভদ্রেশ্বর শহর ও সমাজের জন্য কিছুটা শ্রম দিয়ে বিনামূল্যে এই খাবার পেতে পারে তাঁরা। জীবিকা অর্জনের জন্য অনেক কিছুই করতে হয়। সমাজ পরিষ্কার রাখতে এটুকু প্লাস্টিক তো জোগাড় করাই যায়। শহর পরিষ্কার রাখা সকলেরই কর্তব্য।"