
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 January 2025 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি! সৌজন্যে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর জেলমুক্তি!
১৪ মাস জেলবন্দি থাকার পর বুধবার ৫০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বস্তুত বালু একা নন, গত বছর পুজোর মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, মানিক ভট্টাচার্য, জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ শাসকদলের একাধিক নেতা বিধায়ক। স্বভাবতই, কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই, ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, "আমরা আগে থেকেই বলেছি বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সেটিং রয়েছে। এবং ওদের কথা মতোই কেন্দ্রীয় এজেন্সি কাজ করে। তাই ভোটের সময় লোক দেখানো গ্রেফতার করা হলেও মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের প্রত্যেককেই কিন্তু একে একে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।"
সুজন এও বলেন, "সেটিং যদি নাই থাকবে তাহলে তদন্ত শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির যে তৎপরতা দেখা যায়, পরের দিকে তা দেখা যায় না কেন? আসলে সবটাই আইওয়াশ।"
পাল্টা প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে শাসক শিবির থেকে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "আইনি ভাষায় বলতে হয়, জামিন মঞ্জুর করেছে মানে আদালত মনে করছে, তদন্তে অগ্রগতি নেই। তাকে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। কারণ, আটকে রাখার জন্যই আটকে রাখা হয়েছিল।"
রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতারের পর অতীতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে একাধিকবার আদালতে দাবি করা হয়েছে, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে কুণাল বলেন, "আগেভাগেই হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছিল। প্রথম বিভিন্ন সূত্র মারফৎ বলে খবর ছড়ানো হয়। তাতে ধৃত ব্যক্তি, তার দল বা সরকারকে ম্যালাইন করার চেষ্টা কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে আগেও দেখা গিয়েছে। এটা বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থর জন্যই করা হয়। পরে দেখা গিয়েছে তদন্তে অগ্রগতি নেই। হাজার হাজার কোটি টাকার গল্প আর ঘুরে ফিরে তথ্য প্রমাণ সামনে আসে না। সূত্র বলে যে খবরগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেগুলো চার্জশিটে উল্লেখ থাকে না।"
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে আগামীদিনে আক্রমণের সুর আরও চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন কুণাল। তবে এবিষয়ে বিজেপি নেতা, সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, "বিচারাধিন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে এটুকু বলতেই পারি, জামিনে মুক্তি মানে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়।"