দ্য ওয়াল ব্যুরো : জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ও আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির পরে এবার ছাত্রবিক্ষোভ দেখা দিল লখনউতেও। শহরের নাদওয়া কলেজের ছাত্ররা রবিবার রাত থেকেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। রাতে পুলিশ কোনওরকমে বিক্ষোভ সামাল দেয়। সোমবার সকাল থেকে ফের শুরু হয় অশান্তি।
দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে শুনে রবিবার রাতে দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলেমা কলেজের একদল ছাত্র কলেজের বাইরে বেরিয়ে এসে স্লোগান দিতে থাকে। দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ছাত্রদের ফের কলেজে ঢুকে যেতে বাধ্য করে। সকালে আরও বেশি সংখ্যক ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দেয়। পুলিশ তখন বাইরে থেকে কলেজের গেট বন্ধ করে দেয়।
লখনউ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কলানিধি নাইথানি বলেন, "প্রায় দেড়শ জন জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। অন্তত ৩০ সেকেন্ড ধরে পুলিশের ওপরে ইটবৃষ্টি করা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ছাত্ররা ক্লাসরুমে ফিরে গিয়েছে।"
এর আগে উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে তুঙ্গে পৌঁছায় অশান্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান।
আলিগড়ের অধ্যাপক প্রোক্টর আফিফুল্লা খানের অভিযোগ, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা পুলিশের ছোড়া ইটের আঘাতে জখম হয়েছেন।” পুলিশের পাল্টা অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করছিলেন ছাত্রেরা। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসও ছুড়তে হয়।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড় নিয়ে বিবৃতি দেন। তাতে বলেন, "নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। তাতে কেউ কান দেবেন না।" পরে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রত্যেক নাগরিককে সুরক্ষা দিতে দায়বদ্ধ।