
শেষ আপডেট: 22 July 2019 18:30
ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট[/caption]
সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। কাজেই এক বছরের মধ্য সূর্যকে পুরোপুরি সামনে থেকেই নজর রাখতে পারবে আদিত্য এল-১। সূর্যের বহিস্তর ‘ফটোস্ফিয়ার’ এবং আগুনে দুই স্তর ‘করোনা’ ও ‘ক্রোমোস্ফিয়ার’কে খুব কাছ থেকে নিরিখ-পরখ করতে পারবে এই উপগ্রহ। আর আদিত্য এল-১ এর চোখ দিয়েই সূর্যের অনেক না জানা কথা পৌঁছে যাবে আমাদের কাছে।
ইসরোর চেয়ারম্যানের কথায়, সোলার-মিশন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাকাশ-অভিযান। ‘মঙ্গলায়ন’ বা ‘মার্স অরবিটার মিশন’ (মম)-এর পরে এই অভিযান ইসরোর ইতিহাস বদলে দিতে চলেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই উপগ্রহ। বৃহত্তর এই পরিকল্পনায় ইসরোর পাশে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইআইএ), পুণের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আয়ুকা), মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (টিআইএফআর, আমদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (পিআরএল), এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইএসইআর)
গ্রাফিক্স: ইসরো[/caption]
ভিসিবল এমিসন লাইন করোনাগ্রাফ (VELC)— বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাসট্রোফিজিক্স (আইএএ) বানাচ্ছে এই করোনাগ্রাফ। ঝলসে দেওয়া তাপমাত্রাকে আড়াল করে করোনাগ্রাফ দেখাবে ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ এবং সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব ঠিক কতটা পড়ে পৃথিবীর উপর।
সোলার আলট্রাভায়োলেট ইমেজিং টেলিস্কোপ (SUIT)— সূর্যের দ্বিতীয় বহিস্তর ‘ক্রোমোস্ফিয়ার’-এর ওপর নজর রাখার যন্ত্র ‘নিয়ার আলট্রা-ভায়োলেট ইমেজার’। আলট্রাভায়োলেট (২০০-৪০০ ন্যানোমিটার) স্তরের কাছে সোলার ফটোস্ফিয়ারের উপরও নজর রাখবে এই ইমেজার। এটি বানিয়েছে পুণের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আয়ুকা)।
[caption id="attachment_126212" align="aligncenter" width="730"]
সৌরবায়ু[/caption]
আদিত্য সোলার উইন্ড পার্টিকল এক্সপেরিমেন্ট (ASPEX)— রহস্যময় সৌরবায়ু সম্পর্কে জানান দেবে এই উইন্ড পার্টিকল। এটি তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবোরেটরি (পিআরএল)।
প্লাজমা অ্যানালাইজার প্যাকেজ ফর আদিত্য (PAPA)— স্পেস ফিজিক্স ল্যাবোরেটরি (এসপিএল)ও ভিএসএসসি-র যৌথ উদ্যোগে বানানো হয়েছে এই অ্যানালাইজার। সৌরবায়ু ও শক্তির বিকিরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাবে।
সোলার লো এনার্জি এক্স-রে স্পেকটোমিটার (SoLEXS)— বিপজ্জনক সৌরঝড়ের সময় বেরিয়ে আসা এক্স-রে সম্পর্কে সাবধান করবে এই স্পেকটোমিটার। হিট মেকানিজম ও সোলার করোনা নিয়ে পরীক্ষা চালাবে এর স্পেকটোমিটার। এই এক্স রে স্পেকটোমিটার বানাচ্ছে ইসরো স্যাটেলাইট সেন্টার (আইস্যাক)।
হাই এনার্জি এল-১ অরবিটিং এক্স-রে স্পেকটোমিটার (HEL1OS)— সোলেক্সের মতোই সোলার করোনায় প্রতিদিন ঘটতে থাকা রহস্যের উত্তর খুঁজবে এই হাই এনার্জি স্পেকটোমিটার বা হেলিওস। ইসরো স্যাটেলাইট সেন্টার (আইস্যাক), পিআরএল এবং উদয়পুর সোলার অবজারভেটারি (ইউএসও) বানিয়েছে এই স্পেকটোমিটার।
ম্যাগনেটোমিটার— সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্র পরিমাপ করবে এই শক্তিশালী ম্যাগনেটোমিটার। ‘ইনটারপ্ল্যানেটরি ম্যাগনেটিক ফিল্ড’ নিয়ে তথ্য দেবে এটি। এই ম্যাগনেটোমিটার বানানোর দায়িত্বে রয়েছে ইসরোর আইস্যাক ও ল্যাবোরেটরি ফর ইলেকট্রো-অপটিক সিসটেম।
সৌরঝড়[/caption]
তৃতীয়ত, সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম) যার দ্বারা স্যাটেলাইটগুলো আক্রান্ত হয় ও টেলি যোগাযোগে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যও দায়ী এই সৌরবায়ু, সৌরঝড় এবং সৌর বিকিরণ। এই সৌরঝড় কোন পথে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে পারে তার খোঁজ চালাবে আতিত্য এল-১।
চতুর্থত, সূর্য থেকে আসা যে ‘আল্ট্রা-ভায়োলেট রে’ বা অতি-বেগুনি রশ্মি আমাদের জলবায়ুর পক্ষে কতটা ক্ষতিকর, সেটাও জানার চেষ্টা হবে এই সৌর-অভিযানে।