দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুনের একটি সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। তার ফলে মহারাষ্ট্রের কোরেগাঁও ভীমা অঞ্চলে একজনের মৃত্যু হয়। সেই মামলায় শুক্রবার আটজনের নামে চার্জশিট দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। তাঁদের মধ্যে আছেন সমাজকর্মী আনন্দ তেলতুম্বদে, গৌতম নওলাখা এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হানি বাবু। এছাড়া সমাজকর্মী সাগর গোরখে, রমেশ গাইচর, জ্যোতি জগতাপ, স্ট্যান স্বামী এবং মাওবাদী নেতা মিলিন্দ তেলতুম্বদের নামও আছে চার্জশিটে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, এলগার পরিষদের বৈঠকে বুদ্ধিজীবীরা উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। তা থেকেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে এনআইএ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও জড়িত ছিলেন ধৃত বুদ্ধিজীবীরা। তদন্তকারীদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা এলগার পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। অভিযুক্ত বুদ্ধিজীবীরা মাওবাদী মতাদর্শ প্রচার করেন।
এর আগে পুনে পুলিশ ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর কোরাগাঁও-ভীমা মামলায় একটি চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারা পেশ করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করে এনআইএ।
বৃহস্পতিবার রাতেই ভীমা কোরেগাঁও মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত স্টান স্বামী গ্রেফতার হন। রাঁচি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ। আদিবাসীদের সামাজিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন সামাজিক আন্দোলন করে আসছেন এই সমাজকর্মী।
ফাদার স্টান স্বামীর বয়স ৮৩ বছর। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যেই তিনি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রবীণ।
স্টান স্বামীর গ্রেফতারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন বুদ্ধিজীবীরা। ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ টুইট করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মুক্ত চিন্তার পক্ষে থাকা মানুষদের জেলে ঢোকাচ্ছে।
ভীমা কোরেগাঁও মামলার দায়িত্ব এনআইএ-কে দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মারাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পাওয়ার। তিনি বলেন, যেভাবে ওই মামলায় তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ-কে দেওয়া হয়েছে তা অসাংবিধানিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের। এক্ষেত্রে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
শরদ পাওয়ার খুব কড়া ভাষায় বলেন, “মহারাষ্ট্র পুলিশের যে অফিসাররা ভীমা কোরেগাঁও মামলার তদন্তে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকের আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। এই অফিসারদের কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত করা উচিত। একদিন সকালে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীরা পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে দেখা করলেন। সেদিনই বেলা তিনটেয় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হল এনআইএ-র হাতে। এটা অসাংবিধানিক। কারণ আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের অধিকারভুক্ত বিষয়।”
মহারাষ্ট্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ শরদ পাওয়ারের পার্টির সদস্য। তিনি বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এক্ষেত্রে তাঁর কথা শুনছেন না।