কোন আইনে আমাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে! এনআরএস কুকুর-কাণ্ডে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের পাল্টা প্রশ্নের মুখে তদন্ত কমিটিই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরএসে খুন হওয়া ১৬টি কুকুর ছানার তদন্ত করতে গিয়ে সেই কুকুর-কাণ্ডে অভিযুক্ত দুই নার্সিং পড়ুয়ার পাল্টা 'তদন্তের' মুখে পড়ল তদন্ত কমিটি। প্রশ্ন করার পরিবর্তে অভিযুক্তদের পাল্টা প্রশ্নজালে আটকে গেল প্রথম দিনের তদন্ত।
তদন্তে যু
শেষ আপডেট: 28 February 2019 09:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরএসে খুন হওয়া ১৬টি কুকুর ছানার তদন্ত করতে গিয়ে সেই কুকুর-কাণ্ডে অভিযুক্ত দুই নার্সিং পড়ুয়ার পাল্টা 'তদন্তের' মুখে পড়ল তদন্ত কমিটি। প্রশ্ন করার পরিবর্তে অভিযুক্তদের পাল্টা প্রশ্নজালে আটকে গেল প্রথম দিনের তদন্ত।
তদন্তে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, "ওদের প্রশ্ন করা যায়নি বললেই চলে। দু'জনেই খুব অসহযোগিতা করেছে। আইন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে। ফের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে ওদের। ওরা লিখিত দিক। না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।"
জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে এনআরএসের দুই নার্সিং পড়ুয়া মৌসুমী মণ্ডল ও সোমা বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ১৬টি কুকুরছানাকে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মেরেছে তারা। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ হতেই চাঞ্চল্য পড়ে যায় সব মহলে। শুধু পশুপ্রেমীরা নয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এনআরএস চত্বর। দাবি ওঠে, বাতিল করতে হবে ওই পড়ুয়াদের অনুমোদন।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে রাজ্য নার্সিং কাউন্সিল নতুন করে তদন্ত শুরু করে ওই দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। নতুন তদন্ত কমিটি তৈরি হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রথম বর্ষের নার্সিং ছাত্রী মৌসুমী মণ্ডল ও দ্বিতীয় বর্ষের সোমা বর্মনকে। একই সঙ্গে দু'জনকেই আলাদা ভাবে লিখিত বয়ান জমা দেওয়ার নির্দেশ ও দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে গঠিত নার্সিং কাউন্সিলের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুললেন সেই অভিযুক্তরাই। তদন্ত কমিটির সামনে হাজির নার্সিং সুপার, নার্সিং শিক্ষক-সহ অন্য তিন ছাত্রী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযুক্ত বলে পাল্টা দাবি করে ওই দুই পড়ুয়া। তাদের কথা শুনে রীতিমতো বিব্রত হয়ে পড়ে তদন্ত কমিটি। ওই কমিটিতে হাজির ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাসকেও অভিযুক্ত বলে দাবি করে বসে তারা!
ফলে ওই দুই পড়ুয়াকে প্রশ্ন করতে গিয়ে নিজেরাই প্রশ্নের মুখে পড়েন তদন্তকারী কমিটির সদস্যরা। সূত্রের খবর, এক পড়ুয়া জানতে চান, কোন আইনে তাঁদের ক্লাস থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোন নিয়মে অনুযায়ী হাসপাতাল এক্তিয়ার-বহির্ভূত ভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে!
এ ছাড়াও তদন্ত কমিটির যে নির্দেশ, দুই অভিযুক্ত যেন তাদের নিজেদের বক্তব্য লিখিত জানায়, সেই নির্দেশও ওই দুই অভিযুক্ত নার্সিং পড়ুয়া মানেনি বলে অভিযোগ।
আরও এক বার তাদের সুযোগ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ফের ডাকা হবে মৌসুমী মণ্ডল ও সোমা বর্মনকে।