
দিলীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 19 May 2024 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত সেবাশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশনের কিছু মহারাজ ডাইরেক্ট পলিটিক্স করে দেশের সর্বনাশ করছেন, শনিবার আরামবাগের সভা থেকে এই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যা নিয়ে শনিবার বিকেল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। এবার এ ব্যাপারে পাল্টা প্রশ্ন তুললেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ।
রবিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ বলেন, "সাধু সন্ন্যাসীদের রাজনীতি করা বারণ আছে নাকি? আজকে হিন্দু সমাজ বিপন্ন। হিন্দু সমাজের মহিলারা বিপন্ন। এ কথা তাঁরা বলবেন না? সন্ন্যাসীরা সর্বস্ব ছেড়েছেন ধর্ম রক্ষার জন্য, তাঁরা তো বলতেই পারেন।"
দিলীপের অভিযোগ, "মুখ্যমন্ত্রী মৌলবাদী রাজনীতি করাতে পারেন, তাঁদের সঙ্গে নমাজ পড়ে তাঁদের ভোট নিতে পারেন। আর এরা বললেই দোষ?"
একই সঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, "মুখ্যমন্ত্রী যে সংস্থাগুলির (ভারত সেবাশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন) নাম বলছেন, তাঁরা রাজনীতি করেন না, মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা জাগান আর সমাজ সেবা করেন।"
গোপীবল্লভপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ছত্রধর মাহাতোর হাত ধরেই তিনি জঙ্গলমহলে ঢুকেছিলেন। ছত্রধর একসময় পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধরণের কমিটির সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটিকে মাওবাদীদের সহযোগী সংগঠন হিসেবে আগে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ।
এদিন ওই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপের দাবি, "মুখ্যমন্ত্রী নিজে মুখে স্বীকার করেছেন, ছত্রধর তাঁকে জঙ্গলমহল চিনিয়েছে। তাহলে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার চক্রান্ত এবং নন্দীগ্রামে মাওবাদীদের নিয়ে এসে গণহত্যা ঘটানোর সব দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন না কেন?"
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ২৮ মে পশ্চিম মেদিনীপুরের সড়ডিহায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস। লাইনচ্যুত হয়ে চলন্ত মালগাড়ির সঙ্গে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় মাও-যোগের অভিযোগ উঠেছিল। মামলায় অভিযুক্ত ছত্রধরও।
দিলীপের অভিযোগ, "এই ছত্রধরের নেতৃত্বেই জঙ্গলমহলে শয়ে শয়ে মানুষকে সে সময় হত্যা করা হয়েছিল।"