পুরুলিয়ায় বিজেপির সাংসদ থাকলেও তৃণমূলের ভোটের মার্জিন খুব একটা বেশি নয়— সেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, “একসঙ্গে লড়লে পুরুলিয়ায় বিজেপিকে হারানো সম্ভব।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে দলের সংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
অগস্টের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক পর্যালোচনা বৈঠক। সোমবার সেই ধারাবাহিকতায় বৈঠক হল বীরভূম ও পুরুলিয়ায় (Birbhum-Purulia)। গোষ্ঠীকোন্দল দূর করে দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার উপর জোর দেন অভিষেক।
বীরভূমের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কোর কমিটির সদস্য অনুব্রত মণ্ডল, বিকাশ রায়চৌধুরী ও কাজল শেখরা। একসঙ্গে বসে আলোচনা করাকেই ‘উদাহরণযোগ্য ছবি’ বলে ব্যাখ্যা করেন অভিষেক। কড়া বার্তায় বলেন, “সবাই মিলে আজ একসাথে এখানে বসে বৈঠক করছেন। এই ছবিই জেলায় রাখতে হবে। জেলার এক আসনেও হার নয়। সব আসন জিততে হবে এবার।”
বীরভূমের ১১টি বিধানসভা আসনের দখল নিতে এখন থেকেই রণনীতি তৈরি করছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, কয়েকটি ব্লকে সভাপতির পরিবর্তন হতে পারে। বৈঠকে অভিষেক জানিয়েছেন, একাধিক নাম জমা পড়েছে। দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রত্যেকের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক দক্ষতা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠক শেষে কাজল শেখ বলেন, “দল যাকে পাঠাবে, তাকেই আমরা বিধানসভায় জিতিয়ে পাঠাব।” অনুব্রত মণ্ডলের কথাতেও একই সুর, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, তাতে বিজেপি যতই কুৎসা করুক, ভোটে কিছু হবে না।”
অন্যদিকে, পুরুলিয়ার বৈঠকেও ছিল কড়া বার্তা। সেখানে দলের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল রুখতে স্পষ্ট নির্দেশ দেন অভিষেক। বলেন, বুথে বুথে সংগঠকদের যেতে হবে, বুথস্তরের কাজেই জোর দিতে হবে। স্থানীয় কর্মসূচি এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর নজর দিতে হবে।
পুরুলিয়ায় বিজেপির সাংসদ থাকলেও তৃণমূলের ভোটের মার্জিন খুব একটা বেশি নয়— সেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, “একসঙ্গে লড়লে পুরুলিয়ায় বিজেপিকে হারানো সম্ভব।”
আগামী নির্বাচনের আগে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে বীরভূম ও পুরুলিয়ার এই বৈঠক যে দলের রণকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এখন দেখার দ্বন্দ্ব ভুলে জেলা নেতারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন কিনা।