রবিবার পরমানন্দপুর থেকে বাঘের পোল পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রার পর জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 April 2026 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়নার বাইশ গজে এবার লড়াই জম্পেশ। একদিকে বিজেপির তারকা প্রার্থী তথা ক্রিকেটার অশোক দিন্দা, অন্যদিকে তৃণমূলের বাজি চন্দন মণ্ডল। রবিবার পরমানন্দপুর থেকে বাঘের পোল পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রার পর জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন্দার স্পেল সামলাতে পালটা কোচিং করে গেলেন তিনি।
“দিন্দার বলে এবার ছক্কা মারবেন চন্দন”
একজন পেশাদার বোলার হিসেবে দিন্দার পরিচিতিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “আগে ব্যাটসম্যানরা ওঁর বোলিংয়ে ছক্কা-চার মারতেন, কিন্তু রাজনীতির মাঠে এবার কেবল চন্দনই ছক্কা মারবেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত নির্বাচনে জেতার পর দিন্দা কি সাধারণ মৎস্যজীবী বা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন? অভিষেকের দাবি, বিজেপি মানেই গুন্ডা আর গদ্দারদের ডেরা, যেখানে কোনো ভদ্রলোক থাকতে পারেন না।
পূর্ব মেদিনীপুরের উন্নয়নের ‘ইঞ্জিন’ হবে ময়না
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন প্রতিশ্রুতি দেন যে, চতুর্থবারের মতো তৃণমূল ক্ষমতায় এলে ময়না হবে পূর্ব মেদিনীপুরের উন্নয়নের চালক। তিনি বলেন, “আমি ময়নার যত্ন নেব ঠিক সেভাবেই, যেভাবে আমি আমার নিজের সংসদীয় কেন্দ্রের যত্ন নিই।”
অভিষেক এদিন ময়নার উন্নয়নের যে খতিয়ান দিয়েছেন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তা এরকম—
সেতু ও রাস্তা: কংসাবতী নদীর উপর ৪০ কোটি টাকার সেতু এবং সংলগ্ন ১২ কিমি রাস্তার কাজ রাজ্য সরকারই করেছে।
ফিশারি হাব: ময়নার ৯৫% মানুষ মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের জন্য এখানে একটি অত্যাধুনিক ‘ফিশারি হাব’ গড়ার ঘোষণা করেন অভিষেক।
আবাস যোজনা: চন্দন মণ্ডলের জয়ের ৬ মাসের মধ্যে পাকা বাড়ি পাবেন এলাকার মানুষ।
পুলিশ আউটপোস্ট: বাগচা এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের অঙ্গীকার।
বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ স্লোগানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক আরও বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী আর অশোক দিন্দা একপাশে থাকুক, অন্যপাশে আমি আর চন্দন থাকব। রিপোর্ট কার্ড নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের লড়াই হোক।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি আম্পায়ার (কেন্দ্রীয় সংস্থা ও কমিশন) সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ ফিক্সিং করে মাঠে নেমেছে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় তৈরি তৃণমূলের ব্যাটে প্রতিটি বলেরই উত্তর দেওয়া হবে ছক্কা হাঁকিয়ে।
রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ময়নার ৬০ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। এছাড়াও ১ লক্ষ মৎস্যজীবীকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দুর্ঘটনাজনিত বিমার সুবিধাও মিলছে। অভিষেক স্পষ্ট করেন, ময়নার উন্নয়নের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২৩ তারিখের ভোটে জনগণ তাদের যোগ্য জবাব দেবে।