সম্প্রতি আসানসোলে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জয় শ্রী রাম’-এর বদলে ‘জয় মা কালী’ বলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিষেক। তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ঠ্যালার নাম বাবাজি! ২৬ এর ভোটের পর এদের দিয়ে আমরা জয় বাংলা বলাব।”
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 21 July 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “বাংলার ভোটার লিস্টে কারচুপি হলে রাস্তায় নামবে তৃণমূল। প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলন হবে ।”
তিন দশক আগে ভোটাধিকার আদায়ের দাবিতে শহিদ হওয়া তৃণমূল কর্মীদের স্মরণ করে অভিষেক বলেন, “৩৩ বছর আগে ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রক্ত দিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা। আজও সেই লড়াই করতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা মানা হবে না। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে তৃণমূল। দিল্লি পর্যন্ত কর্মসূচি গড়াবে।”
সম্প্রতি আসানসোলে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জয় শ্রী রাম’-এর বদলে ‘জয় মা কালী’ বলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিষেক। তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ঠ্যালার নাম বাবাজি! ২৬ এর ভোটের পর এদের দিয়ে আমরা জয় বাংলা বলাব।”
বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেকের অভিযোগ, “বাংলায় জিততে না পেরে এখন গায়ের জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করছে।” ডায়মন্ড হারবারের পুরনো বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বলেছিলাম বিজেপি ৫০ পেরোবে না। ২০২১-এ বলেছিলাম, খেলা হবে। এবার বলছি, পদ্মফুল উপড়ে ফেলতে হবে। এবারে ওদের শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে।”
এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, “মানুষকে বোঝান, বাংলায় কথা বললেই বিজেপির নেতারা বাংলাদেশি তকমা দিচ্ছে। বাংলা ভাষার, সংস্কৃতির বিরোধিতা করছে ওরা। এর জবাব দিতে হবে ২৬ এর ভোটে।”
শহিদ মঞ্চ থেকেই অভিষেক শপথবাক্য উচ্চারণ করেন, “আমরা মেরুদণ্ড বিক্রি করব না। আত্মসমর্পণ করব না। গলা কেটে দিলেও ‘জয় বাংলা’ বেরোবে মুখ থেকে। এবার থেকে সংসদেও বাংলায় কথা বলব।”
তৃণমূলের এই বার্তা আগামী দিনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভাষণ নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।