তিনি দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) একাধিকবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ আদানপ্রদান গুরুতর প্রশ্ন তুলছে বলে তাঁর মত।

সি মুরুগান এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 18 February 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট (Whatsapp Screenshot) প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (Supreme Court) নির্দেশ কি প্রকাশ্যে অমান্য করা হচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক ও নথিবদ্ধ পদ্ধতি এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সাংসদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-র বৈধতা জনগণের আস্থার উপর দাঁড়িয়ে, কোনও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার উপর নয়। তিনি দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) একাধিকবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ আদানপ্রদান গুরুতর প্রশ্ন তুলছে বলে তাঁর মত।
অভিষেকের অভিযোগ সরাসরি স্পেশ্যাল রোল অবজারভার সি. মুরুগানকে (Special Roll Observer C Murugan) নিয়ে। দাবি, তিনি সরাসরি মাইক্রো অবজার্ভারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্থ সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশেই এই পদক্ষেপ।
Is the @ECISVEEP of the view that directions of the Hon’ble Supreme Court can be openly FLOUTED? The highest Court of the land has repeatedly emphasised transparency, due process, and adherence to official channels of communication. Yet we are witnessing instructions being… pic.twitter.com/YVtwkK8p5m
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) February 18, 2026
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে - মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা সহায়ক মাত্র, সিদ্ধান্তমূলক নয়। তাহলে কেমন নির্দেশে এবং কার অনুমতিতে বিধিবদ্ধ পদ্ধতি এড়িয়ে এইভাবে নির্দেশ জারি হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। সাংসদের অভিযোগ, রোল অবজার্ভারদের জেলা-ভিত্তিক দায়িত্ব নির্ধারিত থাকলেও তাঁদের লগইন তথ্য কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় স্থান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই লগ-ইন ডেটা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমনকি দিল্লিতে বসে কমিশনের ‘রাজনৈতিক প্রভুদের’ নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যদি এই বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়, তা হলে লগ-ইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন এবং আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল অবজার্ভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলবে না। অর্থাৎ, অনুমোদিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে - এমন সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তৃণমূল সাংসদ।
কড়া ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তোলা হবে। একই সঙ্গে, যাঁরা দিল্লির ‘জমিদারদের’ নির্দেশে কাজ করছেন বলে তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্কের আবহে এই অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।