দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার বালির প্রতিভাবান শ্যুটার কণিকা লায়েকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় মর্মাহত অভিনব বিন্দ্রা। অলিম্পিকে সোনা জয়ী ভারতের একমাত্র কিংবদন্তি শ্যুটার জানিয়েছেন, আমার শুনে খুব খারাপ লেগেছে যে বাংলার একটি মেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। মানসিক অবসাদের কারণেই যে কণিকা এই পথ বেছে নিয়েছেন, সেটাই প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
এর আগেও খুশপ্রিৎ কাউর সাঁধু নামে জুনিয়র এক শ্যুটারও এইভাবেই আত্মঘাতী হয়েছিল। এমনকি পাঞ্জাবের আরও দুই শ্যুটারের অবস্থাও একই হয়েছিল। কেন কী কারণে বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেই নিয়ে পদক্ষেপ চান বিন্দ্রা।
ভারতের তারকা শ্যুটার এই সম্পর্কিত বিষয়ে সমাধানের জন্য জাতীয় রাইফেল সংস্থার প্রেসিডেন্ট রনিন্দর সিং-কে চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে বিন্দ্রা লিখেছেন, ‘‘দেশের উঠতি শ্যুটাররা কেন এমনভাবে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে, তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। কেন তাদের মধ্যে হতাশা আসবে? কেন তারা নিজেদের প্রতি এতটা হতাশ হয়ে পড়ছে। সেটি দেখতে হবে, যদি মনে হয় তেমন কোনও আইন প্রণয়ন করতে হবে আমাদের। দেশের প্রতিভাবান শ্যুটারদের রক্ষা করতেই হবে।’’
শুধু তাই নয়, বিন্দ্রা এও চান, সংস্থার তরফ থেকে যেন মনোবিদ নিয়োগ করা হয়। অনেকেই পারফরম্যান্স জনিত হতাশার কারণেও নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে, এটাও নতুন প্রজন্মদের কাছে ভয়ানক চিন্তার বিষয়।
বেজিং অলিম্পিকে ভারতকে শ্যুটিংয়ে সোনা এনে দেওয়া বিন্দ্রার বক্তব্য, জাতীয় সংস্থাকে পাশে থাকতে হবে, দেখতে হবে শ্যুটাররা যেন কখনই অবিচারের শিকার না হয়।
কেননা বালির কণিকার আত্মঘাতী হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তাঁর কোচ অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার অন্য ঘটনার কথা বলেছেন। কণিকা সুইসাইড করার দিনই তাঁর কোচ জয়দীপ বলেছিলেন, গত অক্টোবর মাসে আমেদাবাদে প্রি ন্যাশনাল মিটে যোগ্যতামান পেরনো সত্ত্বেও কণিকাকে বাতিল করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, তিনি নাকি প্রতারণা করেছেন। এই ঘটনার পরে তিনি অপমানিত বোধ করেন।
যদিও কণিকা আত্মঘাতী হওয়ার পরে সুইসাইড নোটে লেখেন, তিনি হতাশার কারণেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। এই হতাশা যে পারফরম্যান্স জনিত কারণেই সেটিও পরিষ্কার হয়ে যায়।