
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 13:12
দ্য ওয়াল বাংলা: মঙ্গলবার লোকসভায় শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নব নির্বাচিত সাংসদদের সিংহভাগই। শপথবাক্য পাঠ করার সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাংশ সাংসদ 'জয় বাংলা' স্লোগানও দেন। যা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী-সহ পদ্মশিবিরের কয়েকজন সাংসদকে পাশে নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে অভিজিতের কটাক্ষ, "জয় বাংলা একটা অসুখের নাম। যখন আমরা ছোটছিলাম তখন চোখে একটা বিশেষ ধরনের রোগ হত। যাকে বলা হত, জয় বাংলা। নিমফল দিয়ে চোখ ঠিক করতে হত। তখনই জয় বাংলা নামটা তৈরি হয়।"
একই সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের কটাক্ষ করে অভিজিৎ বলেন, "ওদের হয়তো চোখ দিয়ে জল পড়ার সময় এসেছে, তাই জয় বাংলা, জয় বাংলা বলছে!"
এবারের লোকসভা ভোটে বাংলা থেকে অন্তত ৩০টি আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল পদ্মশিবির। ভোট ফেরৎ সমীক্ষাতেও সিংহভাগ সমীক্ষক সংস্থা বাংলায় বিজেপির ভাল ফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, তৃণমূল গতবারের চেয়েও এবারে ৭টি বেশি আসন পেয়ে প্রায় ৩০ এর কোঠায় পৌঁছে যায়। অন্যদিকে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে দাঁড়ায় ১২।
যদিও অভিজিৎ বোঝাতে চেয়েছেন, আগামীদিনে তৃণমূলের খারাপ সময় আসতে চলেছে। তাই ওরা জয় বাংলা বলে চিৎকার করছে।
একুশের বিধানসভা ভোটের সময় থেকে রাজ্যে জয় বাংলা স্লোগান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পদ্মশিবিরের জয় শ্রীরামের জবাবে জয় বাংলা স্লোগান দিতে শুরু করেন শাসকদলের নেতা, কর্মীরা। এমন স্লোগানের নেপথ্যে তৃণমূলের যুক্তি, বিজেপি শুধু বাংলার বদনাম করে। সবদিক থেকে বাংলাকে বঞ্চিত করতে চায়। তা সত্ত্বেও বাংলা এগিয়ে চলেছে। তাই বাংলার জয়গান গাইতেই এই স্লোগান।
তখন থেকেই কার্যত জয় শ্রীরামের জবাবে জয় বাংলা তৃণমূলের স্লোগান হয়ে ওঠে। লোকসভায় শপথ নেওয়ার পর এবার যা নিয়ে কটাক্ষ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
অতীতে ভোটের প্রচারে অভিজিতকে 'চাকরি খেকো বাঘ' বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির প্রায় সব নেতা। এখন দেখার অভিজিতের এদিনের কটাক্ষের জবাবে তৃণমূল শিবির থেকে কী প্রতিক্রিয়া ধেয়ে আসে।