
শেষ আপডেট: 27 November 2020 10:52
লকডাউনের পর দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তখন রেলু স্থানীয় এক মৎস্যজীবীর থেকে একটি নৌকা ভাড়া নেন। সেখান থেকে রোজ নদীতে ১৮ কিলোমিটার পথ নিজে নৌকা চালিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছান। সেখান থেকে আরও খানিকটা পথ পায়ে হেঁটে তারপর পৌঁছান গ্রামে। সঙ্গে থাকে ছ'বছরের কম বয়সি শিশুদের ও অন্তঃস্বত্তা মহিলাদের জন্য থাকে প্রয়োজনীয় খাবার, ফল, ওষুধ।
আসলে এত প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই বললেই চলে। কোনও ডাক্তাররা যান না এখানে। এতগুলো মাস ধরে ওখানকার মানুষগুলো কী খাবেন, কীভাবে আছেন, কেমন আছেন, এই প্রশ্নগুলোই রেলুর মনের মধ্যে জেগেছিল। তাঁদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন রেলু। তাই একা একাই রোজ পৌঁছে যান দাদার, আলিগাটের প্রত্যন্ত গ্রামে।
রেলু নিজে মুখে বলেন, "প্রতিদিন নৌকা বেয়ে এতটা পথ যাওয়াটা সহজ নয়। বাড়ি ফেরার সময় হাতে খুব যন্ত্রণা করে। কিন্তু তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার চিন্তা হয় ওই মানুষগুলোর জন্য। তাঁরা যাতে সুস্থ থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে তার জন্যই তো যাওয়া। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, আমি ততদিন এভাবেই যাতায়াত করব।"
রেলুর কাজকে বহু মানুষ প্রশংসা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান হয়েছে। ননদারবার জেলা পরিষদ থেকেও এই কাজের জন্য রেলুকে বাহবা জানিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এমন দুঃসময়ে এক মানবিক মুখ এখন রেলু বাসাবি।