উল্লেখ্য, গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তখন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআরের কাজের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 February 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার (Voter List) বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগে বড় খবর। এসআইআরের কাজের জন্য মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে বলে জানিয়ে রাখল নবান্ন। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার একটি চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেই শুনানিতে আগের মতোই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করতে পারেন বলে জল্পনা। তার আগেই কমিশনকে গ্রুপ-বি আধিকারিকের (Group B) সম্ভাব্য সংখ্যার কথা জানিয়ে রাখা হল।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তখন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআরের কাজের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি। সেই কারণেই ভিন্রাজ্য থেকে আধিকারিক আনতে হয়েছে কমিশনকে। ওই শুনানির পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ, যেখানে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলিও ছিলেন, নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে, তা সোমবারের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার আগেভাগে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।
আগের শুনানিতে মমতা অভিযোগ করেছিলেন, নামের বানান বা পদবি পরিবর্তনের মতো সামান্য কারণে বহু ভোটারকে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তাঁর দাবি। আদালতও জানায়, বানানের ছোটখাটো ভুলের জন্য যেন কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়, সে বিষয়ে কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে ভাষাগত সমস্যার সমাধানে বাংলা ভাষায় দক্ষ আধিকারিক নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং নবান্নকে এমন আধিকারিকদের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল।
এর পর কমিশন আদালতে জানায়, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসআইআরের কাজে মাত্র ৮০ জন গ্রেড-২ আধিকারিক দিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। বরং অঙ্গনওয়ারি কর্মীর মতো নিম্নস্তরের কর্মীদেরই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছে।
এই মামলায় আগের দিনই নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নোটিস পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের মধ্যে দু’পক্ষের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শুনানির নোটিস জারি করার ক্ষেত্রে কমিশনের আধিকারিকদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার কথাও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাজ অনেকটাই শেষের দিকে থাকলেও এখনও সব জায়গায় শুনানি সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কমিশন সময় চেয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা যে হবে না, কমিশনের তরফে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।