যে স্বপ্ন কুড়ি বছর আগে দেখা হয়েছিল, তা অবশেষে সত্যি হতে চলেছে, এই আশায় বুক বাঁধছে উত্তরবঙ্গ।।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অগস্টের শেষেই চালু হয়ে যাবে গঙ্গার উপর নির্মীয়মাণ দ্বিতীয় সেতু (Second bridge over the Ganga, Farakka)। বৈষ্ণবনগর ও ফরাক্কা সংযোগকারী এই সেতু আপাতত প্রথম ধাপে দুটি লেনে খুলে দেওয়া হবে যান চলাচলের জন্য। পরে পুরো চার লেনের সেতু জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা।
নতুন সেতু চালু হলে যেমন চাপ কমবে ফরাক্কা ব্যারাজ সংলগ্ন পুরনো সেতুর উপর, তেমনই উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মসৃণ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
১৯৭২ সালে চালু হওয়া ফরাক্কা ব্যারাজ সংলগ্ন সেতুটি এখন কার্যত নড়বড়ে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে এই সেতুর উপর দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিকল্প সেতুর দাবি উঠছিল। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে বহু টানাপোড়েন পেরিয়ে ২০১৮ সালে শুরু হয় নতুন সেতুর নির্মাণকাজ। প্রথমে লক্ষ্য ছিল ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ শেষ করার। কিন্তু নানা বাধায় পিছিয়েছে প্রকল্প।
প্রথম ধাক্কা আসে এক দুর্ঘটনায়। বৈষ্ণবনগর প্রান্তে দুর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক ও আধিকারিকের মৃত্যুতে কিছুদিনের জন্য থমকে যায় কাজ। এরপরেই হানা দেয় করোনা। থমকে যায় সমস্ত নির্মাণ। এরপর চিন-ভারত সম্পর্ক অবনতি হওয়ায় প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় চিনা সংস্থা। একা হয়ে পড়ে দক্ষিণ ভারতের নির্মাণ সংস্থা আরকেইসি (RKC)। তারা অবশ্য হাল ছাড়েনি। একাই এগিয়ে নিয়ে যায় কাজ। এখন প্রকল্প কার্যত শেষ পর্যায়ে।
গঙ্গার উপর ২.৫৮ কিমি দীর্ঘ এই সেতুর সঙ্গে অ্যাপ্রোচ রোড ধরে পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৫.৪৬৮ কিলোমিটার। চার লেনের এই সেতুতে রয়েছে আধুনিক কংক্রিট ঢালাই, বল-বিয়ারিং প্রযুক্তি, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা। নির্মাণকারী সংস্থার দাবি, সেতুর দু’পাশে মোট ৮৪টি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে সেতুটি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে থাকছে একাধিক নজরদারি ব্যবস্থা, কারণ সেতুটির অবস্থান আন্তর্জাতিক সীমান্তের অত্যন্ত কাছে—বাংলাদেশ মাত্র কয়েক কিমি দূরেই।
নির্মাণকারী সংস্থার সিভিল সাইট ইঞ্জিনিয়ার ইসরাইল শেখ জানিয়েছেন, “এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। ডিভাইডারে রং ও আলো লাগানোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। অগস্টের মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।”
প্রজেক্ট ম্যানেজার ভেঙ্কটেশস্বামী রাও জানান, “প্রথম পর্যায়ে দুটি লেন খুলে দেওয়া হবে। রং ও আলো লাগানোর কাজ বাদে মূল কাঠামোর কাজ সম্পূর্ণ। আশা করছি, খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতু উদ্বোধন হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পরিবহণ কর্তৃপক্ষ, সকলের চোখ এখন গঙ্গার এই নতুন সেতুর দিকেই। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সবাই। যে স্বপ্ন কুড়ি বছর আগে দেখা হয়েছিল, তা অবশেষে সত্যি হতে চলেছে, এই আশায় বুক বাঁধছে উত্তরবঙ্গ।