
শেষ আপডেট: 9 November 2023 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: ক্লাস নাইনে পড়ে রুবিনা। হরিহরপাড়া আব্দুলপুর গ্রামে দুই ভাই ও মাকে নিয়ে থাকে সে। বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। কেরলে রয়েছেন। সেখানে থেকে টাকা পাঠালে রুবিনাদের সংসার ও পড়াশোনা চলে। কয়েকদিন আগেই কেরলে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে পড়ে গেছেন রুবিনার বাবা। এই দুর্ঘটনায় গোটা পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।
এই ছাত্রীর বাবা এখন কেরলের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। ওই হাসপাতাল থেকেই প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে রুবিনাদের কাছে। এই বিল হাতে পেয়ে অথৈ জলে পড়েছে গোটা পরিবার। বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে কোনও সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্য চাইছে এই কিশোরী।
রুবিনা জানিয়েছে, চার মাস আগে তাঁর বাবা আজিজুর সেখ গ্রাম ছেড়ে কেরলে রাজমিস্ত্রির কাছ করতে গেছিলেন। পয়লা নভেম্বর একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির তিনতলায় কাজ করছিলেন। সেখান থেকে পা পিছলে নীচে পড়ে যান। সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আজিজুর। তাঁর বুকের একদিকে ও শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরেই বাড়ির মালিক আজিজুরকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কেরলের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে আজিজুরের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগেই প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বিল পাঠিয়েছে। এই পরিবারের পক্ষে এতগুলো টাকা জোগার করা অসম্ভব। গ্রামের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও এত টাকা জোগার করা যাবে না। তাই বাইরে থেকে কেউ যদি টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তাহলে এই ছাত্রী তার বাবাকে ফিরে পাবে।
বাড়ি দালানে বসে ওই ছাত্রী রুবিনা খাতুন বলে, ''ভাই-বোনেদের মধ্যে আমি সবচেয়ে বড়। মনে হচ্ছে বাবার কাছে ছুটে চলে যাই। কিন্তু এতগুলো টাকা আমার কাছে নেই। কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে উপকৃত হব।''