
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 December 2024 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন লাগলে দমকলের বড় গাড়ি ঢোকাতে অসুবিধা হয়। এজন্য বস্তি এলাকায় দাহ্য পদার্থর যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারপরও সম্প্রতি তপসিয়া ও নিউ আলিপুরের ঝুপড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। নিউ আলিপুরের অগ্নিসংযোগ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে দীর্ঘক্ষণ শিয়ালদহ-বজবজ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয় দুর্গাপুর ব্রিজেও।
সূত্রের খবর, ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থল পর্যন্ত নিয়ে যেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল দমকল কর্মীদেরও। অতীতে একাধিকবার এমন দুভোর্গের মুখে পড়েছেন দমকল কর্মীরা। পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার দমকলের ১৫টি ছোট গাড়ি কিনছে রাজ্য। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, বহু এলাকায় দমকলের বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না। সেজন্য আড়াই হাজার লিটার জলধারণ ক্ষমতার ১৫টি ছোট গাড়ি কেনা হচ্ছে।
দমকল সূত্রের খবর, এছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৭৫টি নতুন ফায়ার টেন্ডার কেনা হচ্ছে। শীঘ্রই জঙ্গিপুর ও পূর্ব বর্ধমানে আরও দুটি ফায়ার স্টেশন খোলা হচ্ছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে ১৬৪টি দমকল কেন্দ্র রয়েছে। আগামী দিনে এই সংখ্যাটা ২০০ পর্যন্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে রাজ্যের। উদ্দেশ্য, কোথাও অঘটন ঘটলে দমকলের গাড়ি যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে।
প্রসঙ্গত, পরপর ঝুপড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় সম্প্রতি নিজের ক্ষোভ চেপে রাখেননি কলকাতার মহা নাগরিক ফিরহাদ হাকিম। নিউ আলিপুরের অকুস্থলে দাঁড়িয়েই ফিরহাদ প্রশ্ন তুলেছিলেন, "পর পর ঝুপড়িতেই কেন আগুন লাগছে?" ফিরহাদ এও বলেন, "এর পিছনে নিশ্চয়ই কিছু রয়েছে। শীতের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ কিছু একটা করছে। অনেকেই বাড়ির আশেপাশে দাহ্য পদার্থ রাখেন। সেটাও আমাদের দেখতে হবে।"
এ ব্যাপারে পুরসভা কি পদক্ষেপ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মুুখ্যমন্ত্রীর সতর্কতা এবং বার বার ঝুপড়িতে আগুন লাগা নিয়ে ফিরহাদ প্রশ্ন তোলার পর অনেকেই মনে করছেন, ঝুপড়িতে দাহ্য পদার্থ রাখা নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে পারে পুরসভা।