কমিশন সূত্রে খবর, সফরকালে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO), পুলিশ কমিশনার (CP) ও জেলা পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা।
.jpeg.webp)
জাতীয় নির্বাচন কমিশন
শেষ আপডেট: 10 February 2026 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১ ও ২ মার্চ— এই দু’দিনের জন্য রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের (ECI) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। কমিশন সূত্রে খবর, সফরকালে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO), পুলিশ কমিশনার (CP) ও জেলা পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা।
শুধু প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেই নয়, নির্বাচনকালীন নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতি যাচাই করতে বিভিন্ন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের উদ্দেশ্য, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিধিনিষেধ কার্যকরের অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির বাস্তব চিত্রই এই সফরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী এপ্রিল–মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পুদুচেরির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্চের শুরুতেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এক দফাতেই করানোর পক্ষপাতী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। সিইও দফতরের এক সূত্রের দাবি, ভোট কত দফায় হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় এক দফায় ভোটের প্রস্তাবই তুলে ধরবে সিইও দফতর।
প্রসঙ্গত, অতিমারির আবহে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তার আগে নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Narendra Modi) সময়ে ২০১৬ সালে রাজ্যে সাত দফায় ভোট হয়। ইউপিএ আমলে ২০১১ সালে—যে নির্বাচনে বামেদের হারিয়ে তৃণমূল–কংগ্রেস (TMC Congress) জোট ক্ষমতায় আসে, ছ’দফায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। কমিশনের সঙ্গে সিইও-র বৈঠকে এসআইআর পর্বের (SIR West Bengal) পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। স্ক্রুটিনির জন্য আরও সাত দিন সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছোবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। সেই কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সোমবার বিকেলে ইঙ্গিত দেয় কমিশন। রাজ্যের সিইও দফতর জানিয়েছে, তালিকা প্রকাশ আরও দেরি হতে পারে।
সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইআরও-দের অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৪ তারিখের পর আরও এক সপ্তাহ সময় মিলছে। ইআরও-দের কাজ শেষ হলে ডিইও-রা তা মূল্যায়ন করবেন। তার পরে সিইও দফতর সব কিছু খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। ফলে ২১ ফেব্রুয়ারির আগে তা প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও রকম বাধা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কমিশনের কাজের সামঞ্জস্য সব ক্ষেত্রে মিলছে না। কমিশনের তরফে কিছু কর্মীকে সাসপেন্ড করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “অনুগ্রহ করে বিষয়টি দেখুন। সাসপেনশনের পরামর্শ দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী কী করা উচিত, রাজ্য তা নিশ্চয়ই জানে।” কমিশনের অভিযোগ, নিয়মভঙ্গের অভিযোগে কয়েক জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি।