দ্য ওয়াল ব্যুরো: উহান করোনাভাইরাসের আঁতুরঘর নয়। বরং মারণ ভাইরাস ছড়িয়েছে আমেরিকার থেকেই। বিশ্বজোড়া মহামারীর আতঙ্কের মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করে বসল চিন। অভিযোগ আরও। করোনাভাইরাস যে নিছক মারণ জীবাণু নয়, বরং জিনের গঠন বদলে তৈরি করা রাসায়নিক মারণাস্ত্র, এমন খবরও নাকি আমেরিকাই রটিয়েছে।
চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বৃহস্পতিবার টুইটার পোস্ট করে লেখেন, মার্কিন সেনাদের থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল উহানে। সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ায় চিনের মূল ভূখণ্ডে। ঝাওয়ের দাবি, গত বছর অক্টোবরে উহানে আয়োজিত সপ্তম মিলিটারি ওয়ার্ল্ড গেমে যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকার অন্তত ৩০০ জন সেনা অ্যাথলেট। তখনই তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ফ্লু-তে আক্রান্ত হন। পরে কয়েকজনের মৃত্যুও ঘটে। তখন বলা হয়েছিল নিছক জ্বর বা সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সেনাদের। পরে জানা যায়, তাঁরা সকলেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
চিনের দাবির পরেই হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্বে। মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ডিরেক্টর রবার্ট রেডফিল্ড স্বীকার করেছেন মার্কিন সেনাদের রক্তে মারণ ভাইরাসের জীবাণু মিলেছিল এটা ঠিক, তবে তাঁদের থেকেই যে ভাইরাস উহানে ছড়িয়েছিল সেটা একেবারেই ঠিক নয়। চিনের দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেন তিনি।
https://twitter.com/zlj517/status/1238111898828066823?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1238111898828066823&ref_url=about%3Asrcdoc
এদিকে সিডিসি করোনাভাইরাসের তথ্যে শিলমোহর দেওয়ার পরেই চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান পত্রপাঠ সেই ভিডিও সমস্ত চিনা ওয়েবসাইটে আপলোড করে বলেন, “নাক ঘুরিয়ে হলেও আমেরিকা মানতে বাধ্য হচ্ছে যে তাদের সেনাদের থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে। সাহস থাকলে গোটা বিশ্বের সামনে জোর দিয়ে এটা স্বীকার করা উচিত।”
গত বছর ডিসেম্বরে প্রথম অজানা ভাইরাসের সংক্রমণে উহানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে জানা যায় সেই ভাইরাস সাধারণ কিছু নয়, সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম বা সার্স এবং মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম বা মার্সের মতোই প্রাণঘাতী এবং ব্যাপক হারে মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের নাম দেন নোভেল করোনাভাইরাস। হালে এই ভাইরাস তার চরিত্র বদলে আরও ভয়ঙ্কর। এর সংক্রামক ব্যধিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নাম দিয়ে সিওভিডি-১৯ (COVD-19) । মারণ ভাইরাসের ছোবলে চিনে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২ হাজারের বেশি, আক্রান্ত ৯০ হাজার ছুঁতে চলেছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে সংক্রামিতের সংখ্যা লক্ষাধিক।
উহানে এমন মারণ ভাইরাস কোথা থেকে এল সে সম্পর্কে নানা কথা ছড়িয়েছে বিশ্ব বাজারে। ইজরায়েলি মাইক্রোবায়োলজিস্টরা আগেই দাবি করেছিলেন সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড এই আরএনএ ভাইরাসকে তৈরি করা হয়েছে মারণাস্ত্র হিসেবেই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে শত শত প্রাণনাশ করা সম্ভব। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিএসএল-৪ ল্যাবোরটরিতে অতি গোপনে এই জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল দীর্ঘ সময় ধরেই। হয় সেখান থেকেই ভাইরাস কোনওভাবে বাইরে চলে গেছে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি করোনাভাইরাসকে ‘জেনেটিক্যালি মডিফায়েড’ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস বয়েল। রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম মাথা তিনি। নোভেল করোনাভাইরাস যে নিছকই কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয়, সে বিষয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন ডঃ ফ্রান্সিস। তাঁর দাবি, , উহানের এই বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবোরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, এই ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবোরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। ড. ফ্রান্সিস বলেন, সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার পরে অভিযোগের আঙুল ওঠে এই গবেষণাগারের দিকেই। রোগ প্রতিরোধ নয়, বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত গবেষকরা। যারই পরিণতি হাজার হাজার মৃত্যু। নোভেল করোনাভাইরাসের জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের এই ল্যাবোরেটরি থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনেকেই এ ব্যাপারে জানতেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।