দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড়ের মধ্যে তার আগমন। ফণা তুলে বিশাল সাপের মতো ওড়িশাকে যখন আষ্টেপৃষ্টে জাপটে ধরেছে শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী, সেই সময়েই মায়ের কোল আলো করে জন্ম হয়েছে তার। একদিকে ‘দুধর্ষ’ ঝড়ের তাণ্ডবলীলা, অন্যদিকে তখন হাসপাতাল জুড়ে খুশির হাওয়া। ধ্বংসের সূচনায় যেন নতুন জীবনের আগমনী বার্তা। সেই সন্ধিক্ষণকেই স্মরণীয় করে রাখলেন ভুবনেশ্বরের রেল হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সেরা। ফুটফুটে সেই মেয়ের নাম রাখা হলো ‘ফণী’।
পূর্বাভাস সত্যি করে শুক্রবার সকালেই ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছে সুপার সাইক্লোন ফণী। গাছ উপড়ে, ঘরবাড়ি ভেঙে, বিদ্যুতহীন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে লণ্ডভণ্ড দশা পুরী-সহ ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভুবনেশ্বরও। একের পর এক মিলছে মৃত্যুর খবর। এই অশান্ত পরিস্থিতিতেই যেন লক্ষ্মীলাভ হলো ডাক্তারদের।
সকাল তখন ১১টা। সমুদ্র উথালপাতাল করে ফুঁসছে ফণী। চূড়ান্ত সতর্কবার্তায় রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। তবে কর্তব্যকর্ম ভোলেননি ডাক্তাররা। কারণ আজই যে তার আসার কথা। প্রসব বেদনা ওঠায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বত্রিশের তরুণীকে। সাড়ে ১১টা নাগাদ জন্ম হয় সেই মেয়ের। ঝড়-বৃষ্টি-আতঙ্ক তখন ভুলে গেছেন ডাক্তার থেকে হাসপাতালের কর্মীরা। সদ্যোজাতকে মায়ের কোলে দেওয়ার সময় তাঁদের মুখ থেকে একটাই কথা বার হয়, ‘ফণী।’
মেয়ের নতুন নামকরণে খুশি তার মা, বাবাও। তরুণী রেলেরই কর্মী। মঞ্চেশ্বরে রেলের কোচ রিপেয়ার ওয়ার্কশপে কাজ করেন তিনি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মা ও ‘ফণী’ দু’জনেই একদম সুস্থ রয়েছে।
আজকের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ২০০৯ সালের দাপুটে ঘুর্ণীঝড় আয়লাকে। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে হানা দিয়েছিল এই ঘূর্ণিঝড়। নদীবাঁধ ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবনের জনজীবন। ঝড়ের সেই মুহূর্তে হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে জন্মানো ন’টি শিশুর নাম রাখা হয়েছিল ‘আয়লা’।