২০১০ সালের ১৮ মার্চ হুগলির গুড়াপে তৃণমূল কর্মী ক্ষুদিরাম হেমব্রম খুন হন। এই ঘটনাতেই মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয়কুমার শর্মা অভিযুক্ত আট সিপিএম কর্মীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনান।

শেষ আপডেট: 11 November 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: গুড়াপের তৃণমূল কর্মী খুনে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল চুঁচুড়া আদালত। দোষীরা প্রত্যেকেই সিপিএম কর্মী। গত ৬ নভেম্বর অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
২০১০ সালের ১৮ মার্চ হুগলির গুড়াপে তৃণমূল কর্মী ক্ষুদিরাম হেমব্রম খুন হন। এই ঘটনাতেই মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয়কুমার শর্মা অভিযুক্ত আট সিপিএম কর্মীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনান। সাজাপ্রাপ্ত সিপিআইএম কর্মীরা হলেন তৎকালীন গুড়বাড়ি -১পঞ্চায়েতের প্রধান লালু হাঁসদা, রবি বাস্কে, লক্ষ্মীরাম বাস্কে, সিদ্ধেশ্বর মালিক, সনাতন মালিক, গণেশ মালিক, লক্ষ্মীনারায়ণ সোরেন ও নাড়ু টুডু। ঘটনায় অমর রুইদাস ও নেপাল মালিক নামে আরও দুই বামকর্মী অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁরা বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৮ ই মার্চ গুড়াপে যে দিন তৃণমূল কর্মী ক্ষুদিরাম হেমব্রম খুন হন, সেদিন তাঁর ছেলে সুনীল হেমব্রমের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল। মাঠে কাজ করে বন্ধু তপন রুইদাসের মেয়ের দেখাশোনার জন্য তার বাড়ি গিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ১৯ তারিখ ডিভিসির ক্যানেল থেকে ক্ষুদিরামের বস্তা বন্দি রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রাজনৈতিক কারণে ক্ষুদিরামকে কুপিয়ে খুন করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
১৯শে মার্চ রাতে গুরাপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তপন রুইদাস। গুড়াপ থানার পুলিশ তদন্তে নেমে দশজন সিপিএম কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, তথ্য প্রমাণ লোপাট, অস্ত্র হাতে অপরাধ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। চুঁচুড়া আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। ২৭ শে জুন ২০১৭ সালে চার্জ গঠন হয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১২ জন সাক্ষী দেন এই মামলায়। ঘটনায় ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। বিচারপর্ব চলার সময় দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। আটজন জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। গত ৬ নভেম্বর তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা। এদিন সাজা ঘোষণা হল।
রায় ঘোষণার আগে বাদী-বিবাদী দু পক্ষের আইনজীবীর কাছে থেকে তাঁদের মতামত জানতে চায় আদালত। গত ৭ নভেম্বর সাজা ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। আদালত ৮ জন অভিযুক্তকে পৃথক সেলে রাখার নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার হয় চূড়ান্ত রায় দান। মামলার সরকারী আইনজীবী চণ্ডীচরণ ব্যানার্জি বলেন, "আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত তাঁদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। দশ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন। অনাদায়ে এক বছর কারাবাসের সাজা শুনিয়েছেন।"
হুগলি জেলা আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "প্রায় ১৫ বছর সময় লেগে গেল এই মামলার রায়দান হতে। তবে এর জন্য সরকারি আইনজীবী বা আদালত কেউই দায়ী নয়। মামলা চলাকালীন আসামি পালিয়ে গিয়েছিল। তাকে ধরে এবং তথ্য প্রমাণ জোগাড় করে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছিল। তারপর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।"
ক্ষুদিরামের স্ত্রী মালতি হেমব্রম বলেন,"ওদের ফাঁসি হলে ভালো হত। আমার স্বামী চিরজীবনের মত চলে গেল।ছেলেমেয়েরা ছোটো ছিল। তাদের অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছি।"
ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, "ধনেখালিতে সিপিএম অনেক তৃণমূল কর্মীকে খুন করেছে। তাদের হার্মাদ বাহিনী অত্যাচার চালাতো। ২০১১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিবারগুলোকে বিচার দেওয়ার চেষ্টা করছি। ক্ষুদিরামকে তার পরিবারের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। মৃতদেহ লোপাট করতে টেনে নিয়ে গিয়ে ডিভিসির খালে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার যারা প্রত্যক্ষদর্শী তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়। আদালত তাদের সঠিক বিচার করেছে।" অন্যদিকে আদালত থেকে বেরোনোর সময় দোষীরা দাবি করেন, সিপিএম করেন বলে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।