দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার তালিবান কাবুল দখল করার পরেই বিমান বন্দরের কাছে ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ। তাঁরা সকলে বিমানে চড়ে দেশ থেকে পালাতে চাইছিলেন। তখন হুড়োহুড়ির মধ্যে সাত আফগান অসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা দফতর থেকে জানানো হয়েছে এই তথ্য। দফতরের মুখপাত্র বলেন, "মৃতদের পরিবারকে আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাই।"
এর আগে গত শুক্রবার ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশুকে কাবুল বিমান বন্দরের বাইরে থেকে মার্কিন মেরিন সেনার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিমান বন্দরের পাঁচিলে আছে রেজর ওয়ার। অর্থাৎ তারের সঙ্গে ছোট ছোট ক্ষুর আটকানো আছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক হাতে ধরে শিশুটিকে সেই তারের ওপরে তুলে ধরছেন একজন। শিশুটির ডায়াপার খুলে পড়ছে। তারের ওপার থেকে হাত বাড়িয়ে শিশুটিকে নিচ্ছেন এক মার্কিন সেনা।
আমেরিকার নাগরিকদের কাবুল থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিমান বন্দরে মোতায়েন ছিল ৬ হাজার সেনা। তাদেরই কারও হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি জানিয়েছেন, ওই শিশুটি ছিল অসুস্থ। তার বাবা-মা তাকে মার্কিন মেরিনের হাতে তুলে দিয়েছে। বিমানবন্দরে নরওয়ে সরকারের একটি অস্থায়ী হাসপাতাল ছিল। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা হয়। পরে তাকে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিশুটির বাবা-মা'র প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে মার্কিন সেনা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল।
জন কিরবি বলেন, শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় জানা নেই। আফগানিস্তানে থাকলে যাঁদের জীবন বিপন্ন হতে পারে এমন অনেককে আমেরিকায় আনা হচ্ছে। শিশুটির পরিবারও পরে আমেরিকায় এসে থাকতে পারে। যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তা ব্যক্তিগতভাবে কেউ মোবাইলে তুলেছিলেন। পরে মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, যাঁরা তালিবানের হাত থেকে পালাতে চাইছেন, তাঁদের শিশুদের সাহায্য করছে মার্কিন সেনা। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, জনৈক মার্কিন সেনা একটি শিশুকে কোলে নিয়ে হাসছেন। আরও কয়েকজন সৈনিক তাঁর চারপাশে সতর্ক প্রহরায় রয়েছে। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই মহিলা মার্কিন সেনা দু'টি শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
শনিবার জানা গিয়েছে, তালিবানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘটেছে আফগানিস্তানের অন্তত একটি অঞ্চলে। সেদেশের খামা প্রেসের খবর অনুযায়ী, উত্তর বাগলান প্রদেশের পোল ই হিসার জেলায় তালিবানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। ওই জেলাটি আপাতত জঙ্গিদের হাতছাড়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষ দাবি করছেন, দেহ সালাহ এবং কোয়াসান নামে দু'টি জেলাতেও আর তালিবানের নিয়ন্ত্রণ নেই।