
শেষ আপডেট: 14 December 2020 10:09
রাস্তা ও ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে চিতা বাঘের মৃত্যু গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে এবছরে। ২০১৯ সালে যেখানে ট্রেন ও রাস্তার দুর্ঘটনাতে ১৭টা চিতা বাঘ মারা গিয়েছিল সেখানে এবছর সংখ্যাটা ৩৪-এর ওপরে। আবার এবছর জলে ডুবে মারা গেছে ২৫টি চিতা বাঘ, সেখানে গতবছরে জলে ডুবে মৃ্ত্যের সংখ্যা ছিল ১০।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, চিতা বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ, গত বছরের থেকে যা তিনগুণ বেড়ে গেছে। ২০১৯ সালে মারা গিয়েছিলেন ৮ জন, সেখানে এবছর সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। এবছর মোট ৩৭টি চিতা বাঘকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিতা বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু ও চিতা বাঘেরও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার জন্য বন দফতর একটি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে গত মাসে। ক্ষয়ক্ষতি যাতে রোধ করা যায় তাই এই দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বন সংরক্ষণকারী সুনীল লিমায় বলেন যে, "এই বিষয়টিকে সর্বজনীনভাবে সমাধানের জন্য বন সংরক্ষণ দফতরের অধীনে (পিসিসিএফ) একটি দল গঠন করা হবে। পুরো বিষয়টা সেই দলই পর্যবেক্ষণ করবে।"
২০১৬ সালের আদমশুমারি অনুসারে ভারতে মোট চিতা বাঘের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজারের মধ্যে। ২০২০ সালে চতুর্থ দফার গণনাতে দেখা গেছে মহারাষ্ট্রে চিতা বাঘের সংখ্যা ৬৬৯। যদিও এই হিসেবটা আদমশুমারির বিচারে করা নয়। রাজ্য বন দফতর যদিও দুবছরের মধ্যে চিতা বাঘের সংখ্যাকে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
'ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজার্ভেশন অফ নেচার' চিতা বাঘকে লাল তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী চিতা বাঘ শিকারকে আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বর্তমানে পুনে, নাসিক, আওরঙ্গাবাদ, ধুলি ও অমরাবতী জেলাতে থাকা বড় বড় জলাধারগুলোর জন্য নেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে করে কোনও চিতা বাঘ পড়ে মারা না যায়। কয়েকটি এলাকাতে খুব দ্রুত দল গঠন করা হবে বলে জানা গেছে, যাঁরা পুরো বিষয়টার ওপরে নজর রাখবেন। রাজ্যের বনবিভাগ অনেকগুলো জনসচেতনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়াও ভারতের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রককে ভারতের বন্যজীবন ইনস্টিটিউড কড়া নির্দেশিকা জারি করে চিঠি লিখেছে যাতে করে রাস্তাঘাটে গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে, আর দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।