দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্ণাটকের রাজনৈতিক সংকট ইতিমধ্যেই গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ইস্তফা নিতে রাজি না হওয়ার জন্য স্পিকার রমেশ কুমারকে একদফা তিরস্কার করেছেন বিচারপতিরা। তার পরে শনিবার ফের সুপ্রিম কোর্টে গেলেন কর্ণাটকের পাঁচ বিদ্রোহী বিধায়ক। তাঁদেরও অভিযোগ, স্পিকার ইস্তফা গ্রহণ করছেন না।
এদিন যে পাঁচজন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন, তাঁরা হলেন কে সুধাকর, রোশন বেগ, এমটিবি নাগরাজ, মুনিরত্ন নায়ডু এবং আনন্দ সিং। এই নিয়ে মোট ১৫ জন বিধায়ক সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।
শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বলেছেন, তিনি আস্থাভোট চান। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া বলেন, বিজেপি আস্থাভোটে ভয় পাচ্ছে। কারণ তারা জানে, তাদের দলের কয়েকজনই আমাদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। আস্থাভোটের আগে শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোট এবং বিরোধী বিজেপি, উভয় পক্ষই নিজেদের বিধায়কদের আলাদা করে রেখেছে রিসর্টে। বিপক্ষ যাতে কোনও এমএলএ-কে লোভ দেখিয়ে দলে টানতে না পারে, সেজন্যই সতর্ক হয়েছে সবাই।
গত শনিবার ১১ জন বিধায়ক স্পিকারের অফিসে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। তখন থেকে কর্ণাটকে রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হয়। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের আশা। আশা করা হচ্ছে তার মধ্যেই স্পিকার বিধায়কদের ইস্তফাপত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যদি ইস্তফা না গ্রহণ করেন, তাহলে যাঁরা রেজিগনেশন লেটার দিয়েছেন, তাঁদের বিধায়কপদ যেতে পারে। কারণ তাঁদের দল নির্দেশ দিয়েছিল, শুক্রবারে বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনে সব বিধায়ককে উপস্থিত হতেই হবে। কিন্তু বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার স্পিকারের অফিসে এসে নতুন করে রেজিগনেশন লেটার জমা দেন। তারপর বিমানে ফিরে যান মুম্বইয়ে।
ওই বিধায়কদের সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার ওপরে নির্ভর করবে কর্ণাটকে বর্তমান সরকার থাকবে না যাবে। মুম্বইয়ে যে হোটেলে বিধায়করা আছেন, তার সামনে ক্যাম্প করে বসে আছেন কর্ণাটক কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার বলে পরিচিত ডি কে শিবকুমার। কয়েকজন বিধায়ককে ফের শাসক জোটে টেনে আনার জন্য আড়ালে শলাপরামর্শও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যে বিদ্রোহী বিধায়ক নাগরাজ সুর নরম করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি ও অপর বিধায়ক কে সুধাকর একসঙ্গে রেজিগনেশন লেটার জমা দেন। নাগরাজ বলেছেন, আগে পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, ইস্তফাপত্র পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু পরে শিবকুমারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সুধাকরের সঙ্গে কথা বলে দেখি কী করা যায়।