
শেষ আপডেট: 10 April 2023 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক কিশোরের ঠোঁটে চুম্বন ও জিভ চোষার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বৌদ্ধ ধর্মগুরু ও তিব্বতের আধ্যাত্মিক প্রধান দলাই লামাকে (Dalai Lama) নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে ক্ষমাও চেয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে আধ্যাত্মিক সংযোগই দেখছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বৌদ্ধ লামাদের ব্যাখ্যা, এর সঙ্গে জন্মান্তর ও পুনর্জন্মের সম্পর্ক আছে।
বিতর্ক তাঁর সঙ্গ নিয়েছে বহুবার। তিব্বতকে চিনমুক্ত করার হুঁশিয়ারিও তিনি দিয়েছেন। অত্যন্ত সংযমী থেকেও লাল ফৌজের বিরোধিতা করেছেন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। নোবেলজয়ী অশীতিপর আধ্যাত্মিক ধর্মগুরুর বেশ কিছু মন্তব্য নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে।
যে পাঁচ কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন দলাই লামা
১) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলাই লামা বলেছিলেন, মহিলা উত্তরসূরিতে তাঁর কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু মহিলা হলে তাঁকে আকর্ষণীয় হতেই হবে। তবেই তিনি দলাই লামার উত্তরসূরি হতে পারবেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে তাঁর উত্তরসূরি যে কে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন চলতেই থাকে অনর্গল। বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে ফের সেই প্রশ্ন তাঁর সামনে এলে দলাই লামা উত্তর দেন আকর্ষণীয় মহিলা উত্তরসূরি হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ধর্মগুরুর কথায়, 'আমার মনে হয়, মানুষ ওই মহিলাকে দেখতে চাইবেন না। যেটা দেখতে চাইবেন সেটা হল তাঁর মুখশ্রী।' আরও একবার জোর গলায় বলে ওঠেন, 'খুবই আকর্ষণীয় হতে হবে। তাছাড়া কোনও কাজে আসবে না।' এমন মন্তব্যের পরেই বিতর্ক শুরু হয় দলাই লামাকে নিয়ে। তিনি যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্যে সে কথা বলেননি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমাও চান।
২) ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে ট্রাম্পকে নিয়ে নানারকম মন্তব্য করেছিলেন দলাই লামা। তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের 'নৈতিক নীতির' অভাব আছে। বাক-স্বাধীনতার জেরে তিনি প্রতারণা করছেন দেশের মানুষকে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প কী কী করেন, তা দেখলেই বোঝা যাবে। এমন মন্তব্য নিয়েও হইচই হয়।

৩) ইউরোপে শরণার্থী সমস্যা নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিব্বতি ধর্মগুরু। দলাই লামা বলেছিলেন, ইউরোপ আসলে ইউরোপিয়ানদেরই জন্য। সেখানে অন্য দেশের মানুষ এসে বসতি গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সমস্যা একটি পাপ৷ তার জন্য অবশ্য মানুষই দায়ী৷ ইউরোপের অবস্থা সত্যিই শোচনীয়৷ শরণার্থীদের সাময়িক ভাবে আশ্রয় দেওয়া হলেও পরে তাঁদের নিজের দেশেই ফেরত পাঠানো উচিত৷ যুদ্ধবিধ্বস্ত নিজের দেশকে পুনর্জীবন দেওয়ার জন্য তাঁদের ফেরত পাঠানো উচিত৷ না হলে অচিরেই ইউরোপের অবস্থা আরব দেশগুলির মতো হবে৷ ইউরোপের সামগ্রিক চরিত্রই বদলে যাবে।
৪) মহাত্মা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নাকে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন জওহরলাল নেহরু। তাঁর এই সিদ্ধান্তে আত্মকেন্দ্রিকতা ফুটে উঠেছিল— দেশভাগ ও এই উপমহাদেশের রাজনীতিকদের শাসন ক্ষমতায় বসা নিয়ে বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামা। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
জিভ চোষানো অশ্লীল নয়, গূঢ় অর্থের ব্যাখ্যা করলেন লামাজি
দলাই লামা আরও বলেছিলেন, "নেহরু সে দিন যদি গান্ধীর প্রস্তাব মেনে নিতেন, তা হলে হয়তো দেশভাগ হত না। সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকরী। কারণ, সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা মুষ্টিমেয় কয়েক জনের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। যা খুবই বিপজ্জনক।" দলাই লামার মন্তব্য, ‘‘আমার মনে হয়, নেহরু নিজেই প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন, এটা তাঁর তরফে কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক ভাবনা। গান্ধীর ভাবনা যদি বাস্তবায়িত হত, তা হলে ভারত-পাকিস্তান এক হয়ে থাকতে পারত।’’
https://twitter.com/DalaiLama/status/1645312490597937152?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1645312490597937152%7Ctwgr%5Ed2d19a2cb1e1b7be75f7b40e982305fa3f792119%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.indiatoday.in%2Fworld%2Fstory%2Fdalai-lama-controversies-tibetan-buddhist-spiritual-leader-dalai-lama-controversial-statements-2358022-2023-04-10
৫) ইদানীংকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে নিয়েই হইচই শুরু হয়েছে। সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তবে ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত দলাই লামাকে প্রণাম জানাতে এসেছিলএকটি ছোট ছেলে। বয়স ৬-৭ বছর হবে। তাতে দেখা গেছে, বৌদ্ধ ধর্মগুরুর সামনে মাথা নোয়ানো ছেলেটির চিবুক ধরে তাঁর ঠোঁটে চুম্বন করছেন তিনি। তার পরে তিনি নিজের জিভটি বের করে এনে ওই কিশোরকে বলেন তাঁর জিভটি চুষে নিতে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘তুমি কি আমার জিভটি চুষে দিতে পারবে?’’ ছেলেটির জিভ স্পর্শ করতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এই ভিডিও ঘিরেই দুনিয়াজুড়ে হইচই শুরু হয়। কেন দলাই লামা এমন করলেন তার কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি কেউ। এমনকী তাঁকে সরাসরি ‘পেডোফিল’ বলে বসেন অনেকে। বিতর্কে ইতি টানতে ক্ষমাও চেয়েছেন আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু।