দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের নিরিখে গোটা দেশের মধ্যে ২ নম্বরেরই রয়েছে দিল্লি। মহারাষ্ট্রের পরেই এই রাজ্যে এ পর্যন্ত সংক্রামিত হয়েছেন মোট ১৭ হাজার ৭১২ জন, মারা গেছেন ৮৭৪ জন। এই সংখ্যাগুলি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হলেও, আদতে এটা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এমনটাই জানালেন রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীষ সিসোদিয়া। তিনি মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, দিল্লিতে এখনও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু না হলেও, যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে আগামী মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে পাঁচ লাখে!
অন্যদিকে করোনার একাধিক উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খোদ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিবাল। তাঁর গলা ব্যথা রয়েছে, জ্বরও রয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার বিকেল থেকেই তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী রিপোর্ট আসে, তাই নিয়ে উদ্বেগ আছে সব মহলেই। এই পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, দিল্লিতে করোনা যেভাবে বাড়ছে তাতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে অন্যান্য রাজ্যের মানুষদের চিকিৎসা সম্ভব হবে না। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই প্রস্তাব কার্যকরী করা সম্ভব হয়নি।
গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে অতি দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ। প্রতি ১২-১৩ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। যা ইঙ্গিত করছে, জুন মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ৪৪ হাজার, জুনের ৩০-এর মধ্যে এক লক্ষ, জুলাইয়ের ১৫ তারিখের মধ্যে সওয়া দুই লক্ষ এবং জপলাইয়ের ৩১ তারিখের মধ্যে সাড়ে পাঁছ লক্ষে পৌঁছতে পারে সংক্রমণ।
এরই মধ্যে গতকাল, সোমবার করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড করেছেন নয়াদিল্লি। সেখানে একলাফে নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ১০০৭ জন। এর পরেই দিল্লির লেফটন্যান্ট গর্ভনর অনিল বাইজাল একটি সর্বদল বৈঠক ডাকেন। দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার পরে খারিজ হয়ে যায় অন্য রাজ্যের রোগীদের চিকিৎসা না দেওয়ার প্রস্তাব। এর পরেই বৈঠক করেন মণীষ শিশোদিয়া।
এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে দিল্লি পরিদর্শনে আসা বিশেষজ্ঞ দলের আধিকারিকরা জানিয়ে দিয়েছেন দিল্লিতে করোনাভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন এর আগে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে সংক্রমণের যে নতুন কেসগুলি আসছে সেগুলির ক্ষেত্রে কীভাবে সংক্রমণ হয়েছে তা জানা যাচ্ছে না৷ অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় দল সে তত্ত্ব খারিজ করার পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মণীষ শিশোদিয়া। তার পরেই সাড়ে ৫ লক্ষ সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রীর এই কথায় আতঙ্ক বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও বেশ চাপের মুখে পড়েছেন এই অনুমানে। এভাবে চললে, জুলাই মাসের মধ্যে দিল্লির হাসপাতালগুলিতে করোনা চিকিৎসার জন্য মোট ৮০ হাজার বেডের প্রয়োজন হবে বলেও জানিয়েছেন মণীষ শিশোদিয়া। এই পরিষেবা কীভাবে সম্ভব, সেটা ভেবেই চিন্তিত সমস্ত মহল।