দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ দেশে কোভিডে মোট যত জনের মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত, তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ মৃত্যুই হয়েছে ১ জুন থেকে লকডাউন শিথিল করার পরে। শুধু তাই নয়, বিপদ আরও বাড়িয়ে পরিসংখ্যান বলছে, ৮ জুন থেকে দেশে আক্রান্ত হওয়ার যে হার, তাকে ছাপিয়ে গেছে মৃত্যুহার! যেখানে গত সপ্তাহ থেকে দেখে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে ১.২৯ গুণ, সেখানে মৃত্যুহার বেড়েছে ১.৩৩ গুণ! এর ফলে গোটা দেশে কোভিডে মৃত্যুর হার ২.৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২.৮৯ শতাংশ।
লকডাউনের পরেই এমন পরিসংখ্যান স্বাস্থ্যকর্তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সাবধানতা নিয়ে লকডাউন শিথিল করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, তাতে যে খামতি থেকে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের সচেতনতায় যে খামতি থেকে যাচ্ছে, সর্বোপরি এই সংক্রমণ যে ক্রমেই আরও তীব্র আকার ধারণ করছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।
চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে দেশে মোট ৭৭ হাজার ৯৮টি করোনা আক্রান্ত মানুষের খোঁজ মিলেছে। এই একই সময়কালে মারা গেছেন ২৪৪২ জন। সেক্ষেত্রে শুধু এই সপ্তাহের মৃত্যুহার দাঁড়ায়ে, ৩.১৭ শতাংশ, যেটা এতদিনের তুলনায় আচমকাই বেশি। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় মৃত্যুর এই হার কম, কিন্তু তা জনসংখ্যার অনুপাতে ধরলে, বিপদের দিকেই ইঙ্গিত করে।
ফলে এই মুহূর্তে কেন্দ্রের এক ও একমাত্র চিন্তা, কী করে মৃত্যুহার কমানো যায়। সমস্ত রাজ্যকেও এ বিষয়ে যা দরকার তাই করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। দেখা যাচ্ছে, দেশের কোভিড মৃত্যুর হার এত বাড়ার কারণ মূলত পাঁচটি রাজ্যে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রদেশ। এই পাঁচটি রাজ্যেই সারা দেশের মোট কোভিড মৃত্যুর ৮০ শতাংশ ঘটেছে। এই পাঁচটি রাজ্যের ৬৫টি জেলায় মৃত্যুর হার পাঁচ শতাংশেরও বেশি বলে জানা গেছে।
এই রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সাম্প্রতিক সংযোজন। এই রাজ্যের মূল উদ্বেগ বাড়িয়েছে কলকাতা। অন্য মেট্রো শহরগুলির তুলনায় সারা দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু এখানেই হয়েছে বলে জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান। ৩৮৩৩ আক্রান্তের ঘটনায় মারা গেছেন ২৯৭ জন। এর ফলে এ শহরে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৭.৭৫ শতাংশ, যা আর কোনও শহরে নেই। শুধু তাই নয়, জুনের প্রথম ১৫ দিনে এ শহরের আক্রান্তের হার যা ছিল, তার চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে আচমকাই।
তবে মেট্রো শহরগুলি বাদ দিলে, সবচেয়ে চড়া মৃত্যুহার এদেশে দেখা গেছে মেরঠ শহরে। মোট ৬৬৬ আক্রান্তের মধ্যে ৬০ জন মারা গেছেন সেখানে। অর্থাৎ মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৯.১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে খারাপের দিকেই এগোচ্ছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারও। সর্বোপরি, কেন্দ্রের পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে দেশের আসল চিত্র। অনেকেই মনে করছেন, এটাই শুরু আর দুয়েক মাসে সংক্রমণের চরমে পৌঁছবে ভারত। বিশ্বের অন্য সব দেশকে ছাপিয়ে যাবে আক্রান্তের সংখ্যায়।