কেন একের পর এক প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভেরিফিকেশন পর্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন?
_0.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ-ভেরিফিকেশনের (SSC Verification) ডাক পেয়েও প্রার্থীদের ধারাবাহিক গরহাজিরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনে (SSC)। সপ্তাহের শুরু থেকেই বিষয়টি প্রশাসন ও শিক্ষামহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
মঙ্গলবার বাংলা বিষয়ে ছয়জন, বুধবার ইংরেজিতে ১৮ জন অনুপস্থিত থাকার পর বৃহস্পতিবার ইতিহাস এবং কম্পিউটার সায়েন্সের প্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের সময়ও প্রথমার্ধেই গরহাজির ছিলেন ১৫ জন। তিন দিনে মোট অনুপস্থিতির সংখ্যা ৩৯ (39 Candidates Absent)।
এ দিন ভেরিফিকেশনে ১৩৫০ জনের মতো প্রার্থীকে ডাক পাঠানো হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অনুপস্থিত প্রার্থীর সংখ্যা এখনো জানাতে পারেনি এসএসসি। এটি নিয়েই জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছে— কেন একের পর এক প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভেরিফিকেশন পর্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন(Is the absence due to fear of false qualification claims being leaked)?
কমিশন সূত্রের অভিমত, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অনেকেই হয়তো আবেদনে ভুল যোগ্যতা দাবি করেছিলেন, এবং তা তথ্য যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে যাবে বুঝেই হাজির হননি। এসএসসি-র যুক্তি, প্রাথমিকভাবে যাচাইয়ের সময় বহু আবেদনেই অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে করা হচ্ছে, এবারও ভুল তথ্য দেওয়া প্রার্থীরাই ভেরিফিকেশন এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তবে গরহাজিরার এই প্রবণতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করবে কিনা তা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে। অনুপস্থিত প্রার্থীদের জায়গায় বিকল্প প্রার্থী ডাকতে হবে এবং নতুন করে তাঁদের নথি যাচাই করতে হবে। এতে সমগ্র নিয়োগপ্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে কমিশন সূত্রের আরও তথ্য, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত তথ্যেও গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। অন্তত ২৬ জন প্রার্থী ভুল অভিজ্ঞতার দাবি করেছিলেন। তাঁদের কারও কারও অভিজ্ঞতার বছর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল, কারও ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্যের মিল ছিল না। সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ— একজন প্রার্থীর কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না, তবুও তিনি পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার দাবি করে আবেদন করেছিলেন। এই ২৬ জনের প্রার্থীপদ ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে এসএসসি।
কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “ভুল তথ্য দিয়ে প্রার্থী হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৎভাবে যোগ্যতা অর্জনকারীরা যেন ন্যায্য সুযোগ পান, সে বিষয়েই কমিশন কঠোর।”
প্রশ্ন উঠছে— এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর গরহাজিরা কি কেবল ভুল তথ্য লুকোনোর চেষ্টা, নাকি প্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থা? শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আদালত-পর্ব, তদন্ত এবং বাতিল–নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে বহু প্রার্থী অতিরিক্ত সতর্ক বা বিভ্রান্ত। আবার অনেকেই বলছেন, যোগ্যতার অসঙ্গতিই এই অনুপস্থিতির মূল কারণ।