দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাম জন্মভূমি মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু এক বিচারপতি অসুস্থ হওয়ায় পিছিয়ে গিয়েছে শুনানি। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেছেন, অযোধ্যা মামলার শুনানি দ্রুত হওয়া উচিত। অনেকে বলছেন, এদেশে মামলার ক্ষেত্রে এমনই হয়। কেবলই পিছিয়ে যেতে থাকে। এই প্রসঙ্গে দেশের বিভিন্ন আদালতে বকেয়া মামলার একটি হিসাব দিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক কাঞ্চন গুপ্ত। তিনি টুইটারে লিখেছেন, এদেশের নানা কোর্টে জমে থাকা মামলার সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। এখন যে গতিতে মামলা এগয় তাতে ৩০০ বছরেও এতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হবে না।
নির্দিষ্ট করে বলতে হলে এখন দেশে বকেয়া মামলার সংখ্যা ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ৭০ হাজার ৮১৭ টি। শুধু নিম্ন আদালতে যত মামলা জমে আছে তারই নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে ৩২৪ বছর।
কেবল সুপ্রিম কোর্টেই জমে আছে ৫৭ হাজার ৩৪৬ টি মামলা। হাইকোর্টগুলিতে জমে আছে ৪৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৮৩ টি মামলা। নিম্ন আদালতগুলিতে জমে আছে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৮৮ টি মামলা।
https://twitter.com/KanchanGupta/status/1089949171371495426
কোন মামলা কতদিন ঝুলে আছে, তারও একটি হিসাব পাওয়া গিয়েছে। নিম্ন আদালতে ৬০ লক্ষ মামলা বকেয়া আছে পাঁচ বছরের বেশি। ৬৬ হাজার মামলা ঝুলে আছে ৩০ বছরের বেশি। ১৮০০ মামলার নিষ্পত্তি হয়নি ৪৫ বছরেও।
এতগুলি মামলা আদালতে জমে থাকার ফলে ভোগান্তি হচ্ছে বহু লোকের। বিচারাধীন মামলাগুলিতে বহু লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে বছরের পর বছর জেলে রয়েছেন। মামলার নিষ্পত্তি হলে অনেকেই নির্দোষ প্রমাণিত হতেন। বিচার দিনের পর দিন ঝুলে থাকায় অনেকে জামিনও পাননি। বিচারাধীন মামলায় অনেক অভিযুক্ত এত দিন জেল খেটেছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের অতদিন শাস্তি হত না।
বকেয়া মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘প্লি বারগেন’ অর্থাৎ বিচারের আগেই বাদী ও বিবাদী পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মামলা মিটমাট করে নেওয়ার পদ্ধতি চালু হয়েছে। আইনমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে ১০ লক্ষ মানুষ পিছু আছেন মাত্র ১৮ জন বিচারক। ল কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০ লক্ষ মানুষ পিছু বিচারক থাকা চাই অন্তত ৫০ জন। কিন্তু দেশে ৬১৬০ জন বিচারকের পদ খালি পড়ে আছে।