গুজরাটে ঐক্যের মূর্তি উন্মোচন মোদীর, বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি উৎসর্গ করলেন দেশবাসীকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হল ঐক্যের দৌড়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তির নীচে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, ‘‘এই মূর্তি ঐক্যের। দেশবাসীকে এই মূর্তি উৎসর্গ করা হল।’’
আজ, বুধবার লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই পটেলের ১৪৩তম জন
শেষ আপডেট: 30 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হল ঐক্যের দৌড়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তির নীচে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, ‘‘এই মূর্তি ঐক্যের। দেশবাসীকে এই মূর্তি উৎসর্গ করা হল।’’
আজ, বুধবার লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই পটেলের ১৪৩তম জন্মবার্ষিকী। তাই এই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল গগনচুম্বী মূর্তি উন্মোচনের জন্য। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজে ৫৯৭ ফুট বা ১৮২ মিটার উঁচু মূর্তির উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে ঐক্যের বার্তা দিলেন মোদী। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
গুজরাতের কেওড়িয়াতে নর্মদা নদীর উপর তৈরি করা হয়েছে বল্লভভাই পটেলের মূর্তিটি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’। চিনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ-র থেকে ১৭৭ ফুট উঁচু ও নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির উচ্চতার প্রায় দ্বিগুণ এই মূর্তি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২,৯৮৯ কোটি টাকা। মূর্তিটির নকশা তৈরি করেছেন পদ্মভূষণ প্রাপ্ত স্থপতি রাম ভি সূতর। মূর্তির সঙ্গেই আজ উদ্বোধন করা হবে লাগোয়া টেন্ট সিটির। দরজা খুলে যাবে পটেল মিউজিয়ামের।
https://twitter.com/narendramodi/status/1057281851927097344
ঐক্যের মূর্তি উন্মোচন নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। গতকাল টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই পটেলের দিনই ঐক্যের মূর্তি উদ্বোধন করে গোটা দুনিয়ার নজর কাড়বেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, ঐক্যের নামে এই উচ্চতার দৌড় কেন? সাড়ে চার বছর ধরে মোদী ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্লোগান তুললেও পটেলের মূর্তির বড় অংশ কিন্তু বানিয়ে আনতে হয়েছে চিন থেকে। প্রায় শ’তিনেক চিনা কর্মী গুজরাতে এই মূর্তি তৈরির কাজ করেছেন।
বিতর্কের শেষ এখানেই নয়। নিজের হাতে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা লিখেছিলেন সর্দার পটেল। তিনি তো কংগ্রেসেরই নেতা। তাঁরই প্রায় ছ’শো ফুট উঁচু মূর্তি বানিয়ে তবে কোন ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠেছে বিরোধী শিবিরে।
পটেলের মূর্তি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে গুজরাতেও। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলির বক্তব্য, ওই মূর্তি বানানোর জন্য ৭৫ হাজার আদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতির মুখে পড়েছে আদিবাসীদের ৭২টি গ্রাম। যে নর্মদাতটে পটেলের মূর্তির উদ্বোধন হয়েছে আজ সেখানকারই প্রায় ২২ টি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান মূর্তি উন্মোচনের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, আজ ওই সব গ্রামে শোক পালন করা হবে। একটি বাড়িতেও রান্না হবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য বানানো পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলেছেন এলাকার তফসিলি জনজাতির মানুষ।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন