দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর জুলাই মাসে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন কাফে কফি ডে-র মালিক ভি জি সিদ্ধার্থ। মৃত্যুর আগে তিনি কোম্পানির বোর্ড সদস্য ও কর্মীদের একটি চিঠি লিখে জানিয়ে যেন, বিপুল পরিমাণ ঋণ মেটাতে না পেরেই চরম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করে কাফে কফি ডে-র বোর্ড। তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ২ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
সিদ্ধার্থর মৃত্যু নিয়ে আপাতত একটি খসড়া রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাদের সঙ্গে টাকার লেনদেন করতেন সিদ্ধার্থ। কোন কোন ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল, তাও আছে খসড়া রিপোর্টে। কাফে কফি ডে-র মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট ও সিদ্ধার্থর পরিবার চায়, ব্যবসা চালু থাকুক। এই গ্রুপে অনেকে টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চাকরি করেন। কোম্পানি চায়, তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকুক।
৫৯ বছরের সিদ্ধার্থের মৃত্যুতে শিল্পপতি মহল রীতিমতো চমকে ওঠে। গাড়িতে চড়ে একটি ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সিদ্ধার্থ তাঁর ড্রাইভারকে বলেছিলেন, আমি নামছি। আপনি গাড়ি নিয়ে ব্রিজের ওপর প্রান্তে অপেক্ষা করুন। এরপর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। দু’দিন বাদে মৎস্যজীবীরা নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন। সুইসাইড নোটে সিদ্ধার্থ লিখেছিলেন, ঋণ শোধ করার জন্য পাওনাদাররা তাঁকে চাপ দিচ্ছে। আয়কর দফতরের অফিসাররাও নানাভাবে তাঁর ওপরে চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না।
সিদ্ধার্থর মৃত্যুর এক মাস পরে শুরু হয় তদন্ত। ফেডারেল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির অবসরপ্রাপ্ত অফিসার অশোক কুমার মলহোত্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস করেন এমন এক উকিল তাঁকে সাহায্য করতে থাকেন।
ভি জি সিদ্ধার্থর বাড়ি কর্ণটাকের চিকমাগালুর জেলায়। তিনি কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণর এক মেয়েকে বিয়ে করেন। সিদ্ধার্থর পরিবার ১৩৫ বছর ধরে কফির ব্যবসায় যুক্ত। তবে সিদ্ধার্থ প্রথম জীবনে এই ব্যবসায় আসতে চাননি। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে তিনি প্রথমে চাকরি করেন মুম্বইয়ের জে এম ফিনান্সিয়াল লিমিটেডে। পরে বেঙ্গালুরুতে নিজের কোম্পানি খোলেন, তার নাম সিভান সিকিউরিটিজ। প্রায় একই সঙ্গে শুরু করেন কাফে কফি ডে। চিকমাগালুরে যে কফি উৎপন্ন হয়, তাকে তিনি বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন।
১৯৯৬ সালে সিসিডি-র প্রথম যে আউটলেট তিনি খোলেন সেটি ছিল বাঙ্গালুরুর ব্রিগেড রোডে। চায়ে অভ্যস্ত মানুষকে কফি শপে টেনে আনাই তখন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।