বুর্জ খলিফা থেকে আইফেল টাওয়ার, এ বার লন্ডনের ইমারতে চড়লেন ‘ফ্রেঞ্চ স্পাইডারম্যান’
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত শহরের বিশাল স্কাইস্ক্যাপার। ৪৬ তলা টাওয়ার বেয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। একেবারে পুলিশের নাকের ডগা দিয়েই। ঠিক যেন সিনেমার স্পাইডারম্যান। দেখতে দেখতেই ২৩০ মিটার উঁচু টাওয়ারের ছাদে পৌঁছে গেলেন তিন
শেষ আপডেট: 25 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত শহরের বিশাল স্কাইস্ক্যাপার। ৪৬ তলা টাওয়ার বেয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। একেবারে পুলিশের নাকের ডগা দিয়েই। ঠিক যেন সিনেমার স্পাইডারম্যান। দেখতে দেখতেই ২৩০ মিটার উঁচু টাওয়ারের ছাদে পৌঁছে গেলেন তিনি। নীচে তখন মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন হতভম্ব জনতা। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে গাড়ি দাঁড়ি করিয়ে উপরের দিকে চেয়ে রয়েছেন কৌতুহলী চালক। নীচে তখন একটা ছোটখাটো মেলা বসে গেছে।
লন্ডনের হেরোন টাওয়ারে যিনি এই অসম্ভব কাণ্ড ঘটিয়েছেন তাঁর নাম এলিয়েন রবার্ট। বছর ছাপান্নর রবার্ট ফ্রান্সের বাসিন্দা। তাঁর একটা অন্য পরিচয়ও আছে। লোকসমাজে তাঁর খ্যাতি ‘ফ্রেঞ্চ স্পাইডারম্যান’ হিসেবে। এ যাবৎ বিশ্বের ১৩০-এরও বেশি উঁচু ইমারত এ ভাবেই চড়েছেন তিনি। খালি হাতেই। কোনও প্রযুক্তিকে আশ্রয় করে নয়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার বুর্জ খলিফা থেকে আইফেল টাওয়ার সবই তিনি চড়েছেন খালি হাতে। বিশ্ব রেকর্ডও করেছেন।
যত উঁচু টাওয়ার, ততটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এমনটাই মনে করেন ‘ফ্রেঞ্চ স্পাইডারম্যান’। তাঁর কথায়, ‘‘এটাই আমার ভাল লাগা, এটা করতেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসি।’’ তবে যাত্রাপথের শুরুটা এতটাও মসৃণ ছিল না রবার্টের কাছে। তাঁর ছিল ভার্টিগোর সমস্যা। উঁচু থেকে দেখলেই মাথা ঘুরত। আতঙ্কিত হতেন। সেই রোগ দূর করার অদম্য জেদ থেকেই ধীরে ধীরে পাহাড় চড়তে শুরু করেন। ছোটখাটো শৃঙ্খ জয়ের নেশা চেপে বসে। উঁচু বিল্ডিং বা টাওয়ারও তাঁকে হাতছানি দেয়। বেশি উঁচুতে চড়ার নেশাই আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে।
[caption id="attachment_45898" align="aligncenter" width="521"]

বুর্জ খলিফা চাপছেন এলিয়েন রবার্ট[/caption]
১৯৯৭-এ ১৪৮৩ ফুট উঁচু কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারে খালি হাতে চড়তে শুরু করেন রবার্ট। কিন্তু ৮৮ তলা টাওয়ারের ৬০ তলায় পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু এতে দমানো যায়নি তাঁকে। ১৯৯৯-এ পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসও-এ হোটেল ম্যারিয়ট-এর ৫৫৮ ফুট উঁচু টাওয়ারে চড়ে নজর কাড়েন অসংখ্য মানুষের। ফেব্রুয়ারি ২০০৩, সরকারি অনুমতি নিয়ে এক লক্ষ দর্শকের সামনে ৬৫৬ ফুট উঁচু ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অফ আবু ধাবির টাওয়ারের মাথায় খালি হাতে চড়ে জনপ্রিয় হয়ে যান রবার্ট। সে বছরই মে মাসে ৩১২ ফুট উঁচু লন্ডনের লয়েড বিল্ডিং-এ চড়েন তিনি।

৫ জুন ২০০৮-এ বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে প্রচারে নিউ ইয়র্ক টাইম্স বিল্ডিং-এ চড়েন রবার্ট। অবশ্য এ কাজে অনুমতি না থাকায়, নিউ ইয়র্ক টাইম্স বিল্ডিং-এ ছাদে পৌঁছতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯৯৭-এর অসম্পূর্ণ অভিযান ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯-এ সম্পূর্ণ করেন রবার্ট। বেশিরভাগ সময়েই ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। জেলও খেটেছেন। কিন্তু উৎসাহে ভাটা পড়েনি।
ভয় ও স্নায়বিক দুর্বলতাকে জয় করলেও এ বারের অভিযানে তাঁর একটু আধটু ভয় লেগেছিল বলে স্বীকার করেছেন রবার্ট। বলেছেন, ‘‘প্রথম দিকে সব ঠিকই ছিল। যখন বুঝতে পারি আমি নজরবন্দি হয়ে পড়েছি, কয়েক হাজার চোখ শুধু আমাকেই অনুসরণ করছে তখনই একটু নাভার্স সাগে। পরে অবশ্য সেটা কেটে যায়।’’