পুলিশ সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে দু’জনের খোঁজ মিলেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ লরি ও চালের হদিস নেই।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানে (East Burdwan) মাধবডিহি থানা এলাকার রাস্তা পেরিয়ে ভিনরাজ্যের পথে পাড়ি দিয়েছিল গোবিন্দভোগে বোঝাই লরি (25 tons of Govindabhog rice)। তার পর থেকেই যেন বাষ্প! কেরলমুখী (Kerala) ২৫ টন চাল হঠাৎ ‘গায়েব’, ঘটনায় চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানে। অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ চালকল কর্তৃপক্ষ।
বুলচন্দ্রপুরের ওই চালকলের মালিক সনৎ দত্ত জানান, ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পলেমপুরের একটি পরিবহণ সংস্থার মাধ্যমে ২৫ টন গোবিন্দভোগ চাল তোলা হয় একটি লরিতে। ঠিক ছিল, নির্দিষ্ট সময়েই মাল পৌঁছবে কেরলে। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়েও পণ্য না পৌঁছনোয় সন্দেহ তৈরি হয়। ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মিলছিল না চালকের খোঁজ। লরির মালিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিফল— দাবি সনৎবাবুর।
২২ ডিসেম্বরের পর থেকেই শুরু হয় মরিয়া খোঁজ। লরির নম্বর ধরে তদন্তে নামতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সনৎবাবুর অভিযোগ, যে নম্বরপ্লেট-সহ লরিটি চাল তুলেছিল, তা ভুয়ো! গাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত নথিও নকল বলে সন্দেহ। পরে জানা যায়, ওই নম্বরের প্রকৃত গাড়িমালিক থাকেন হুগলি জেলায়। বিষয়টি জানিয়ে পরিবহণ সংস্থার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা ‘বড় ভুল’ হয়েছে বলেই স্বীকার করেন বলে দাবি চালকল মালিকের। এর পরেই মাধবডিহি থানায় জমা পড়ে লিখিত অভিযোগ।
চালকল কর্তৃপক্ষের হিসেব, প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার গোবিন্দভোগ ছিল ওই লরিতে। পুলিশি সূত্রের খবর, ঘটনাটিতে কোনও সংঘবদ্ধ চক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেই দিকেই এগোচ্ছে তদন্ত।
জেলা রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, “এর আগেও চালবোঝাই লরি হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশের তৎপরতায় লরি উদ্ধার হয়েছে।” তাঁর আশা, এই ঘটনাতেও মিলবে ইতিবাচক ফল।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে দু’জনের খোঁজ মিলেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ লরি ও চালের হদিস নেই।