পার্টি অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) হেনস্থার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এবার সেই আঁচ ছড়িয়ে পড়ল জেলায় জেলায়। অভিযোগ, সোমবার বারুইপুরে (Baruipur) সিপিএমের (CPM) দলীয় কার্যালয়ে (Party Office) ঢুকে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তে অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দলীয় কার্যালয়ের ভিতরেই প্রায় এক ঘণ্টা আটকে পড়েন প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী-সহ সিপিএমের একাধিক নেতারা। যদিও শেষমেশ বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির সামাল দেয়।
কী কারণে অশান্তি?
সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপর হামলা হয়েছে, তার জবাব চাইতেই সোমবার তাঁদের পার্টি অফিসে ঢুকতে বাধা দেন টিএমসিপি-র কর্মীরা। এরপর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিতে দিতে পার্টি অফিসের সামনে চলে আসেন।
অভিযোগ সেই সময়ে সিপিএমের কয়েকজন কর্মী ভিডিও করছিলেন। তারপরই দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায় বলে খবর। সিপিএমের অভিযোগ, তাঁদের নেতাদের গালাগালি করা হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী জানান, এদিন কর্মীদের নিয়ে পার্টি অফিসের লাইব্রেরিতে একটি বৈঠক করছিলেন। তখনই কয়েকজন এসে গন্ডগোল করেন। এরপরই কটাক্ষের সুরে প্রাক্তন বিধায়কের মন্তব্য, তৃণমূলের অফিসে ঢুকতে পারছেন না বলে কেউ যদি ভাবেন সিপিএমের অফিসে এসে ঢুকবেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রী বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালালেন। তার পরেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চুপচাপ আছেন। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। গুন্ডা বানানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশমন্ত্রী-সহ বাকিরা সেই গুন্ডামিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এরপরই সুজনের হুঁশিয়ারি, যদি কেউ ভাবে তালা দেওয়া হবে, সেই তালা ভেঙে দেওয়া হবে। পার্টি অফিস দখলদারির জায়গা নয়।
শনিবারই যাদবপুরের ঘটনার আঁচ গিয়ে পড়ে দিনহাটায় সিপিএমের কার্যালয়ে। ওইদিন সন্ধ্যায় তৃণমূলের দিনহাটা শহর ব্লক সভাপতি বিশু ধরের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। সেই মিছিল থেকে সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল এমনকি জানলা-দরজা পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে দফতরে আলো জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি নেই বলে অভিযোগ।
যদিও এদিন বাররুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিন এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার কারণে এদিন পুরো বিষয় সামলাতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয় পুলিশকে।