
ব্যারাকপুর স্টেশনে হনুমানের আরাধনা
শেষ আপডেট: 12 April 2025 15:35
প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা
একসময় ব্যারাকপুর স্টেশন লাগোয়া একটি গাছের নীচে পুজো হতো হনুমানজীর। এখন স্টেশন চত্বরেই বিশাল মন্দির। বছরভর নিষ্ঠার সঙ্গে সেখানে পুজো হয় বজরঙ্গবলীর। এরফলে আস্ত রেল স্টেশনটাই বদলে গেছে পুণ্য ধামে। হনুমানজয়ন্তীতে হাজারে হাজারে মানুষ আসছেন পুজো দিতে। তাদের বেশিরভাগই নিত্যযাত্রী।
ঐতিহাসিক শহর ব্যারাকপুরের মতোই ঐতিহ্যবাহী স্টেশনটি। স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এই হনুমান মন্দির। আলো আর ফুলের মালায় সেজে উঠেছে একশো বছরেরও পুরনো এই মন্দির। এই মন্দির যাঁরা স্থাপন করেছিলেন তাঁরাই এখনও বংশ পরম্পরায় এই মন্দিরের পূজারী। ১৯২২ সালে স্টেশন লাগোয়া একটা গাছের নীচে ছোট্ট একটি মন্দিরে বসানো ছিল হনুমান মূর্তি। সেই মূর্তিকেই পুজো করতেন এলাকার মানুষ। ১৯৫৬ সালে তৈরি হয় মন্দির।
এখনকার পূজারী পণ্ডিত প্রিন্স তিওয়ারি জানান, তাঁর পাঁচ পুরুষ আগে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। লোক মুখে হনুমানজির মহিমা প্রচার হতে থাকে। মনের ইচ্ছে পূরণ হওয়ায় মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, "প্রতিবার হনুমানজির জন্মদিনে তাঁর প্রিয় প্রসাদ লাড্ডু কেকের মতো কাটা হয় এখানে। এবারও ১৫১ কেজির একটি লাড্ডু কেটে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।"
এই মন্দিরে সারা বছর ভক্তদের সমাগম লেগেই থাকে। বিশেষ দিনে সেই ভিড়ই হয় লাগামছাড়া।স্টেশনের মধ্যে এমন জাগ্রত মন্দির হলেও রেল বা নিত্যযাত্রীদের কোনও সমস্যা হয় না বলেই দাবি মন্দির কমিটির। বরং রেল থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠ ভাবে চলছে এই মন্দির। এমন স্টেশনে এসে ভক্তদের দর্শনের জন্য একটু বেশি সময় দাঁড়াতে দেখা যায় ট্রেনগুলিকে। কারণ ট্রেনে বসেও অনেকে একবার প্রণাম করে যান বজরঙ্গবলীকে।