দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম ৬০ মিনিট দেখে মনে হচ্ছিল চেন্নাইয়ের মাটি থেকে সহজেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফিরবে মোহনবাগান। কিন্তু তারপরেই বদলে গেল ছবিটা। দারুণভাবে ম্যাচে ফিরল চেন্নাই। শেষ ৩০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করল তারা। শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রেখে ৩-২ ব্যবধানে জিতল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
এদিন দলে শুরু থেকেই পাপা বাবাকার দিওয়ারার সঙ্গে কোচ কিবু ভিকুনা নামিয়েছিলেন তুরসুনভকে। চোটে ড্যানিয়েল সাইরাস না থাকায় ডিফেন্সে ফ্রান মোরান্তে সঙ্গে জুড়ে দেন ফ্রান গঞ্জালেজকে। মাঝমাঠে গঞ্জালেজ না থাকায় প্রথমে ঘর গুছিয়ে আক্রমণে ওঠার স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ভিকুনা। তবে সেই পাসিং ও প্রেসিং ফুটবলই খেলছিল বাগান।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে আক্রমণে উঠছিল চেন্নাই সিটিও। কিন্তু বাগানের অ্যাটাকিং থার্ডে এসে আক্রমণ খেই হারিয়ে ফেলছিল। এর মধ্যেই কর্নার থেকে গোল করার জায়গায় চলে গিয়েছিলেন ফ্রান মোরান্তে। ভাল সেভ করেন চেন্নাইয়ের গোলকিপার সান্তানা। কিন্তু বাগানের একের পর এক আক্রমণে ডিফেন্স ভাঙে চেন্নাইয়ের।
২৮ মিনিটের মাথায় বেইতিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন বাবা। পরপর তিন ম্যাচে গোল করলেন তিনি। পরের মিনিটেই ফের কর্নার পায় বাগান। ফের বেইতিয়ার বাঁক খাওয়ানো ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ফ্রান গঞ্জালেজ। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাগান।
গোল খেয়ে শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে চেন্নাই। ৪২ মিনিটের মাথায় মিরান্দার ফ্রিকিক বারে লেগে ফেরে। সহজ সুযোগ নষ্ট করেন শ্রীরাম। গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারেন কাটসুমি ইউসা। বিরতিতে ২-০ এগিয়েই ড্রেসিং রুমে যায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের ব্যবধান বাড়ায় মোহনবাগান। ৪৮ মিনিটের মাথায় বল পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে বাবার জন্য বল সাজিয়ে দেন নওদম্বা নওরেম। ডান পায়ের প্লেসিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন বাবা।
তারপরেই বদলে গেল ছবিটা। হঠাৎ করে গা ছাড়া মনোভাব দেখা গেল বাগান ফুটবলারদের মধ্যে। তার খেসারত দিতে হল। ৬৫ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে চেন্নাইকে খেলায় ফেরান পরিবর্ত হিসেবে নামা বিজয়। তার তিন মিনিট পরেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে শঙ্করকে দাঁড় করিয়ে জাল নাড়িয়ে দেন বালা কৃষ্ণণ।
চাপে পড়ে যায় বাগান ব্রিগেড। কিন্তু তারমধ্যেই ব্যবধান বাড়াতে পারত তারা। বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে একা পেয়েও বলে পা লাগাতেই পারলেন না সুহের। বেইতিয়ার ফ্রিকিক দুরন্ত বাঁচান সান্তানা। তারপরেও একাধিক সুযোগ পায় দু'দল। কিন্তু গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতেই মাঠ ছাড়ে কিবু ভিকুনার ছেলেরা।
এদিনের জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট হল মোহনবাগানের। লিগ শীর্ষেই থাকলেন কিবু ভিকুনার ছেলেরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাঞ্জাবের থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে তারা।