দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত এক বছর ধরে তিনিই পার্টির সব কাজকর্ম দেখছিলেন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমকে-র সভাপতি হলেন প্রয়াত করুণানিধির ছোট ছেলে এম কে স্ট্যালিন। করুণানিধি মারা গিয়েছেন তিন সপ্তাহ আগে। তিনিই স্ট্যালিনকে উত্তরসূরী মনোনীত করে গিয়েছিলেন। তাঁর বড় ছেলে এম কে আলাগিরি বলেছিলেন, তাঁকেও পার্টির কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে হবে। কিন্তু স্ট্যালিনের সমর্থকরা সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।
খুব ধীরে ধীরে রাজনীতিতে উঠে এসেছেন স্ট্যালিন। সেই '৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় জেল পর্যন্ত খেটেছেন। জরুরি অবস্থার ৪০ বছর উপলক্ষে নিজে এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রকে জানিয়েছিলেন সেকথা।
তাঁর কথায়, জরুরী অবস্থার সময় এম গ্রেফতার হয়েছিলাম। জেলে নির্দয়ভাবে আমাকে মারধর করেছিল। একদিন যখন মারছে, আমাকে বাঁচানোর জন্য জড়িয়ে ধরলেন দলের নেতা চিত্তিবাবু। আমি বাঁচলাম বটে, কিন্তু তিনি গুরুতর আহত হলেন। সেদিনের আঘাত তাঁর মৃত্যু ডেকে এনেছিল।
স্ট্যালিন স্বীকার করেছেন, জেল আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৪ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। দুবার চেন্নাইয়ের মেয়র হয়েছেন। করুণানিধি তাঁকে নিজের হাতে উত্তরসূরী হিসাবে তৈরি করেছিলেন। তাতেই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন আলাগিরি।
স্ট্যালিন হলেন ডিএমকে-র দ্বিতীয় সভাপতি। এর আগে করুণানিধি ৪৯ বছর দলের সভাপতিত্ব করে গিয়েছেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে গত ১৪ অগাস্ট দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ঘোষণা করেন, ৬৫ বছরের স্ট্যালিন এবার দলের হাল ধরবেন। আগে তিনি দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর পদে এলেন দুরাইমুরুগন। স্ট্যালিনের দাদা আলাগিরিকে ২০১৪ সালে দল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন করুণানিধি। বাবার মৃত্যুর পরে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, আমাকে পার্টিতে ফিরিয়ে না নিলে বিপদ হবে। কিন্তু এদিন আন্না আরিভালয়মে দলের সদর দফতরে যখন স্ট্যালিনকে সভাপতি ঘোষণা করা হল, ধারেকাছে ছিলেন না আলাগিরি। তাঁর নামও কেউ উচ্চারণ করেনি।