Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

রোজ রাতে ফুঁসে ওঠে মাউন্ট ইটনা, জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে গড়িয়ে নামে লাভা

চৈতালী চক্রবর্তী মাঝে সময়টা প্রায় তিন বছর। নিশ্চিন্তে ঘুম দিয়ে ফের জেগে উঠেছে ইউরোপের এই দৈত্য। আর জেগে উঠেই সে রাগে অগ্নিশর্মা। জ্বালামুখ দিয়ে আগুনের তুবড়ি ছুটছে। কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে গরম লাভার স্রোত। আকাশ কালো হয়ে উঠেছে ছাই আর গাঢ় ধূসর

রোজ রাতে ফুঁসে ওঠে মাউন্ট ইটনা, জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে গড়িয়ে নামে লাভা

শেষ আপডেট: 19 December 2018 18:30

চৈতালী চক্রবর্তী

মাঝে সময়টা প্রায় তিন বছর। নিশ্চিন্তে ঘুম দিয়ে ফের জেগে উঠেছে ইউরোপের এই দৈত্য। আর জেগে উঠেই সে রাগে অগ্নিশর্মা। জ্বালামুখ দিয়ে আগুনের তুবড়ি ছুটছে। কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে গরম লাভার স্রোত। আকাশ কালো হয়ে উঠেছে ছাই আর গাঢ় ধূসর ধোঁয়ায়। গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে ইউরোপের দীর্ঘতম জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ইতালির মাউন্ট ইটনা। চলতি মাসের ৩ তারিখ সকাল থেকেই আগ্নেয়গিরির চারপাশে ছাই উড়তে দেখেই সতর্ক হয়েছিলেন স্থানীয়রা। এই দৈত্যের হাবভাব সবই তাঁদের চেনা। কখনও সে থাকে সুপ্ত, গভীর ঘুমে। আবার হঠাৎ করেই কাঁচা ঘুম ভেঙে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে। পর পর বিস্ফোরণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নামে লাভার স্রোত। তার গরম নিঃশ্বাসে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দেয় চারপাশ। দিনের আলোয় শুধু ছাই দিয়ে ট্রেলর শুরু হলেও সন্ধে নামতেই ফুঁসে ওঠে আগ্নেয়গিরির তিনটি জ্বালামুখ। গড়িয়ে নামতে শুরু করে লাভার স্রোত। স্থানীয় এক চিত্রগ্রাহকদের কথায়, “লেন্সের ওপারে ইটনা যেন আগুনের গোলা। রাতের অন্ধকার চিরে তার গহ্বর দিয়ে ছুটে আসছে লাল আগুনের স্রোত। কী ভয়ঙ্কর অথচ কী সুন্দর। “

জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ইটনা

বয়স আনুমানিক সাত লক্ষ বছর। সিসিলি দ্বীপের কাটানিয়া ও মেসিনা শহরের মাঝে ২৪ মাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই আগ্নেয়গিরি। মূলত আফ্রিকান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের উপর অবস্থিত মাউন্ট ইটনা ইউরোপের অন্যতম জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। লক্ষ লক্ষ বছর ধরেই লাভা উদগীরণ করে আসছে এই আগ্নেয়গিরির পাঁচটা জ্বালামুখ। থামার কোনও বিরাম নেই। ভূমধ্যসাগরের মাঝ বরাবর ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি নিয়ে ইতালির দক্ষিণ প্রান্ত জুড়ে রয়েছে সিসিলি। এর অধিকাংশ ভূমিই দখল করে রেখেছে ইটনা। বর্তমানে যার উচ্চতা ১০,২৯২ ফুট (৩,৩২৯ মিটার)। শুধুমাত্র ইতালি নয়, বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ইটনা। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবার বিস্ফোরণে প্রায় ৭০ লক্ষ টন ছাই, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। অনুমান এই আগ্নেয়গিরির ভিতরের তাপমাত্রা ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১,৮৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কাছাকাছি। গ্রিক ভাষায় ইটনা শব্দের অর্থ হল ‘আমি জ্বলি’। স্থানীয়রা বলেন ‘আগুনের পাহাড়’। তবে নাম আরও আছে ইটনার। সিসিলিয়ান ভাষায় এর নাম ‘মুঙ্গিবেড্ডু’ আর ইতালিয় ভাষায় ‘মোঙ্গিবেল্লো বা মন্টিবেল্লো’  যার অর্থ ‘সুন্দর পাহাড়’। ইটনার সঙ্গে সিসিলিয়ানদের একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। একদিকে এর প্রলয়ঙ্কর রূপ যেমন ধ্বংসের তাণ্ডব চালায়, অন্যদিকে আগ্নেয়গিরির পাদদেশে লাভা মিশ্রিত উর্বর মাটিতে শস্যের ফলন হয় দারুণ। ক্যাটানিয়া থেকে আরও দক্ষিণ উপকূল বরাবর আগ্নেয়গিরির নীচের সমতল অংশে চাষাবাদ করে জীবনধারণ করেন অনেকেই। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) মাউন্ট ইটনাকে বিশ্ব হেরিটেজের তালিকাভুক্ত করে।

প্রথম অগ্ন্যুৎপাত হয় পাঁচ লক্ষ বছর আগে

মাউন্ট ইটনাকে নিয়ে রোমান কবি ভার্গিল লিখেছিলেন, “এটি পৌরাণিক দেবতা হেফায়স্টাস এবং এক ধরনের দানব সাইক্লোপসের বাড়ি।’” প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে আনুমানিক সাত লক্ষ বছর পুরনো এই আগ্নেয়গিরিতে প্রথম প্রাণের স্পন্দন জাগে পাঁচ লক্ষ বছর আগে। আনুমানিক তিন লক্ষ বছর আগে প্রথম লাভা উদগীরণ শুরু করে ইটনা। সে সময় এর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের জ্বালামুখ ছিল সবচেয়ে সক্রিয়। গবেষণায় দেখা গেছে আট হাজার বছর আগে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয় এই আগ্নেয়গিরিতে যার ফলে সুনামি আসে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছাপ পড়ে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। https://www.youtube.com/watch?v=r0vLtMZbBHI&feature=youtu.be

ইটনার পাঁচটি জ্বালামুখই সক্রিয়

দ্য নর্থইস্ট ক্র্যাটার, দ্য ভোরাজিন, দ্য বোক্কা নুওভা, দ্য সাউথইস্ট ক্র্যাটার কমপ্লেক্স (২)। মাউন্ট ইটনার সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয় ১৯৬৯ সালে। জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা লাভাস্রোতে ধ্বংস হয়ে গেছিল প্রায় ১০টি গ্রাম। লাভা স্রোত সমতলের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে মিশেছিল সমুদ্রে। ক্যাটানিয়ার বন্দর এলাকাও লাভা জমে দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হযে গেছিল। এর ২৪ বছর পর ১৬৯৩ সালে ফের সক্রিয় হতে দেখা গেছিল ইটনাকে। ফের চলেছিল ধ্বংসলীলা। মৃত্যু হয়েছিল ৭৭ জন মানুষের। [caption id="attachment_63268" align="alignleft" width="371"] ২০০২ সালে ভূমধ্যসাগরের মধ্যে লাভাস্রোত। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের তোলা ছবি।[/caption] দীর্ঘ সময় সুপ্ত থাকার পর ১৯২৮ সালে ফের জীবন্ত হয়ে ওঠে ইটনা। নর্থইস্ট ক্যাটার থেকে শুরু হয় লাভা উদগীরণ। দু’দিনের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় মাসকালি নামে একটা গোটা গ্রাম। এর পর পর্যায়ক্রমে ১৯৪৯, ১৯৭১, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮৩ এবং ১৯৯১-৯৩ সাল পর্যন্ত বারে বারেই জেগে উঠেছে এই আগ্নেয়গিরি। ১৯৯২ সালে ইটনার অগ্ন্যুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাফেরানা শহর, ঘরছাড়া হন প্রায় সাত হাজার মানুষ। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের দেওয়া সূত্র অনুযায়ী, ২০০২-০৩ সালে মধ্যে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাভা স্রোত। ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূল বরাবর জলের মাঝেও লাভা জমে থাকতে দেখা যায়। মাউন্ট ইটনা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থেকেছে ২০০৮ সালের মে মাস থেকে ২০০৯ সাল এর জুলাই পর্যন্ত। গবেষকরা বলেছেন, এই সময় ইটনার পূর্ব দিকের গহ্বরে যে বিস্ফোরণ হয় তার তীব্রতা ছিল ২০০ ভূমিকম্পের তীব্রতার সমান। ২০১৫ সালে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ফের কেঁপে ওঠে সিসিলি। ছাই আর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। গলিত লাভা স্রোত ছাড়খাড় করে দেয় গ্রামের পর গ্রাম।

```